আ’লীগের শেকড় জনগণের হৃদয়ে প্রোথিত : প্রধানমন্ত্রী

0
58

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : বাসস –

বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের আন্দোলনে নেতৃত্বদাতা আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য বারবার চেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেউ আওয়ামী লীগকে শেষ করতে পারেনি। কারণ এই আওয়ামী লীগের শেকড় বাংলার জনগণের হৃদয়ে প্রোথিত।

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বুধবার রাজধানীর বপ্রন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বাংলানিউজ।
১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ওই আমলে সামরিক বাহিনী, প্রশাসনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বাঙালিকে বঞ্চিত করার চিত্র তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পাট, চা, তামাক থেকে শুরু করে সব অর্থকরী ফসল আমরা উৎপাদন করে রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতাম, আর সেসব নিয়ে যেত পাকিস্তানিরা। তিনবার রাজধানী পরিবর্তন করে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী। কখনো করাচি, কখনো রাওয়ালপিন্ডি, কখনো ইসলামাবাদ। এই পরিবর্তনে যত টাকা খরচ হতো, আমাদের দিতে হতো, কিন্তু ভোগ করতো তারা। তাদের কিন্তু ছিল মরুভূমি। আমাদের অর্থ নিয়ে তারা মরুভূমিতে ফুল ফুটিয়েছিল, আর আমাদের তারা মরুভূমিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছিল। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সংগ্রাম-আন্দোলন।

বগ্রন্ধু ধাপে ধাপে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাঙালিকে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে নিয়েছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার নেতৃত্ব-নির্দেশনায় বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
‘স্বাধীনতার পর পর বঙ্গবন্ধু দেশ গঠনে মনোনিবেশ করেছিলেন, কিন্তু ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট তাকে নির্মমভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে পরাজিত শক্তি বাঙালি জাতিকে নিঃশেষ করে ফেলার চেষ্টা চালায়। এরপর ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর যে অবদান তা মুছে ফেলা হয়েছিল, স্বাধীনতাযুদ্ধে তার নেতৃত্ব মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু পারেনি। ২১ বছর তারা সরাসরি বা সরাসরি নয়, এভাবে ক্ষমতায় ছিল। তখন দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়। তোসামোদী, খোশামোদী, চাটুকারের দল সৃষ্টি করা হয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। জনগণ তখন সত্যিকারের স্বাধীনতার সুফল ভোগ করে। আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করেছে বলে দেশ এখন অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
‘এই আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন। মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছে, স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। এই আওয়ামী লীগকে শেষ করে দেয়ার জন্য চেষ্টা করেছে আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং খালেদা জিয়া। কিন্তু পারেনি। কারণ আওয়ামী লীগের শেকড় জনগণের কাছে প্রোথিত, বাংলার মানুষের সাথে আওয়ামী লীগের শেকড় এমনভাবে প্রোথিত, এত চেষ্টায়ও এই সংগঠনকে শেষ করতে পারেনি। এটা দ্বারা প্রমাণিত হয়, যারা প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে, তাদের শেষ করা যায় না। আর যারা উচ্ছিষ্ট ছিটিয়ে ক্ষমতা দখল করে, তাদের গোড়ায় কিছু থাকে না, সেজন্য ক্ষমতা ছাড়া তাদের অস্তিত্বই থাকে না। এটা এখন প্রমাণিত। আবাদি জমির ক্ষতি করে প্রকল্প নয়।

বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবাদি জমি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণকালে আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে, কোনোভাবেই যেন আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে তার তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে পঞ্চগড়ের নবনির্বাচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার সাদাত সম্রাটের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এস এম গুলাম ফারুক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এলজিআরডি এবং সমবায়মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম, রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো: নজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চগড় জেলা পরিষদের উপনির্বাচনে আনোয়ার সাদাত সম্রাট চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। গত ৯ জানুয়ারি পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আমানুল্লাহ বাচ্চুর মুত্যুতে আসনটি শূন্য হয়।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here