সরকারের পরিবর্তন চাই এখনই : ড. কামাল

0
66

গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এখনই সরকারের পরিবর্তন চাই। কারণ এ সরকারের প্রতি জনগণের একটুও আস্থা নেই। তিনি বলেন, তার বক্তব্য মিথ্যা এটা প্রমাণ করতে সরকার এখনই নির্বাচন দিতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, বুকের পাটা থাকলে নির্বাচন দিয়ে প্রমাণ করুন এ সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আছে। 
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলার আব্দুস সালাম হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বেশি দিন নিয়ে আন্দোলন হলে ঋণের বোঝা বাড়তে বাড়তে আমাদের অর্থনীতিকে চুরমার করে দেবে, ধ্বংস করে দেবে। সুতরাং আন্দোলন ধীরস্থিরভাবে করা চলবে না। আমরা এখনই এ সরকারের পরিবর্তন চাই। 
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, আপনার যদি সৎ সাহস থাকে, বুকের পাটা থাকে তাহলে এখনই নির্বাচন দিন, এ বছরের মধ্যেই নির্বাচন দিন। সংসদীয় গণতন্ত্রে যখনই আস্থার সঙ্কট সৃষ্টি হয়, তখন দু-এক বছরের মধ্যেও নির্বাচন দেয়া যায়।
ড. কামাল বলেন, সরকার যে উন্নয়নের কথা বলে তা আইয়ুব ইয়াহিয়া বলত। এ সরকারও একই কায়দায় উন্নয়নের সাফাই গাইছে। তাদের মুখে উন্নয়নের কথাবার্তা আইয়ুব-ইয়াহিয়াকেও ছাড়িয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু আইয়ুব-ইয়াহিয়ার মুখে উন্নয়ন শব্দটিকে ঘৃণার চোখে দেখতেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দেশে যে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে সে ব্যাপারে সরকারকে মুখ খুলতে হবে। কোথা থেকে কিভাবে কত ঋণ নিয়ে এ ধরনের উন্নয়ন করা হচ্ছে, এসব ঋণের কারণে জাতির ঘাড়ে ঋণের কত বোঝা চাপবে সে ব্যাপারে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর যা হয়েছে তা কী শব্দ দিয়ে বোঝানো যাবে জানি না। এটাকে ভুয়া নির্বাচন বললেও কম বলা হবে। নাটকও বলা চলে না। এটাকে কাল্পনিক নির্বাচন বলা যেতে পারে। একাদশ সংসদকে কাল্পনিক সংসদ অভিহিত করে তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর একটা কাল্পনিক নির্বাচন হয়েছে। অনেকে সংসদ সংসদ বলছেন। আমি তো কোনো পার্লামেন্ট আমার চোখের সামনে দেখি না। সংসদ বললেই সংসদ হয় না, নির্বাচিত বললেই নির্বাচিত হয় না।
সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে ড. কামাল বলেন, আপনারা মনে করবেন না যে, এসব করে আপনারা পার পাবেন। কেননা ১৬ কোটি মানুষের সাথে যেভাবে বেঈমানী ও প্রতারণা করা হচ্ছে তা আইয়ুব-ইয়াহিয়াকেও হার মানিয়েছে। আইয়ুব খান অহঙ্কারের সাথে বলতেন আমি চারিদিকে উন্নয়ন করে দিচ্ছি। উন্নয়ন শব্দটা আমাদের কাছে, বঙ্গবন্ধুর কাছে ওই সময়ে ঘৃণিত শব্দ ছিল। দেশে যেসব অপচয় হচ্ছে, যেসব জিনিসকে বলা হচ্ছে- উন্নয়ন- এটা ঋণের বোঝা আর লুটপাট ছাড়া আর কিছু না।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের মুখে বাকশালের প্রশংসা শুনে জনগণ আতঙ্কিত ও উৎকণ্ঠায় আছে। সরকার দেশকে বাকশালের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। গণমাধ্যম যে স্বাধীন না তারা সে কথাও বলতে পারে না। কারণ আওয়ামী লীগ আজ একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে।
তিনি বলেন, সবাই বলে ঐকফ্রন্টে সঙ্কট আছে। কথায় কথায় বিএনপি আর ঐক্যফ্রন্টে সঙ্কটের কথা বলা হয়। তিনি মঞ্চে উপবিষ্ট নেতাদের দেখিয়ে বলেন, ঐক্যফ্রন্ট আছে, থাকবে। আরো বৃহত্তর ঐক্য হবে। তিনি বলেন, অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে যারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চায়, আসুন স্বাধীনতা দিবসের এই দিনে তাদের অপসারণ করার শপথ নিই। দলমত নির্বিশেষে জনগণের ঐক্য সৃষ্টি করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করি। এতে করে গণতন্ত্রকে মুক্ত করা হবে। কারণ খালেদা জিয়া গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে গিয়ে জেলে গেছেন। 
জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ৩০ ডিসেম্বর ইউনিফর্মধারী প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সরকার মিলে মিশে দেশের স্বাধীনতাকে লুণ্ঠন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। অন্যায় অবিচার, জুলুম-নির্যাতন নিপীড়ন অপহরণ হত্যা গুম খুন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রছাত্রীদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। ফলে ছাত্র এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে। তিনি বলেন, ইসি এবং ভিসি দু’জনেই নির্বাচনকে কলুষিত করেছেন। তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে জেলে রাখাটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে বেমানান। 
নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে চায় না কারণ তারা এ সরকারকে চায় না। জাতিকে এ সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়নের কথা বলে সরকার যে লুটপাট করে যাচ্ছে তার হিসাব জনগণ একদিন নেবেই। যেদিন জনতার আদালত বসবে সেদিন কাউকে ছাড়া হবে না। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট টিকবেই। সামনের দিনগুলোতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে আসব।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেন, ভবিষ্যতে বর্তমান সরকার ও এর ইসি ক্রেন দিয়েও ভোটারদের আর ভোটকেন্দ্রে নিতে পারবে না। এমন ইসি জীবনে দেখিনি। এমন দেশ দেখতে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। এ শাসক দেশে এমন অবস্থা তৈরি করেছে যাতে মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ না পায়। 
তিনি আরো বলেন, এ দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য যুদ্ধ করেছে। সেই গণতন্ত্র আজ অবরুদ্ধ, মানুষ মন খুলে কথা বলতে পারছে না। অর্থনৈতিক মুক্তিও আসেনি। ভবিষ্যতে কোনোভাবেই এ সরকার ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলেই তারা সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে ভয় পায়। একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা যারা লুট করল তাদের বিচার হচ্ছে না। এটা তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা না। 
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার ও যুগ্ম-সম্পাদক প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here