আজ রাজধানীতে জাতীয় শিল্পমেলা শুরু

0
43

রাজধানী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সাত দিনব্যাপী জাতীয় শিল্পমেলা আজ শুরু হচ্ছে। শিল্প খাতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য ও সেবা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচার, বিক্রয় ও প্রসারের লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো এই মেলার আয়োজন করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সাত দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করবেন। ‘প্রথম জাতীয় শিল্পমেলা ২০১৯’ উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ন এ তথ্য জানান। এ সময় শিল্পসচিব মো: আবদুল হালিমসহ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, বিভিন্ন করপোরেশন ও সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
মেলার আয়োজন সম্পর্কে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাসহ বিভিন্ন মেলা হয়ে থাকে। কিন্তু এবারই প্রথম জাতীয় শিল্প মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। মেলায় পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা থাকলেও এ মেলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো। এর পাশাপাশি শিল্প উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ স্থাপন এবং পণ্য উৎপাদন ও সেবা সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভোক্তাসহ বিভিন্ন মহলের সৃজনশীল মতামত গ্রহণ।
তিনি বলেন, কেবল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা নয়, বাংলাদেশে এখন অনেক বৃহৎ ও হাইটেক শিল্প গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণ জরুরি। তিনি বলেন, দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য এ ধরনের মেলার আয়োজন শিল্প খাতে সুদূরপ্রসারী অবদান রাখবে। এ বাস্তবতা বিবেচনা করে শিল্প মন্ত্রণালয় প্রথম জাতীয় শিল্প মেলার আয়োজন করেছে।
শিল্পমন্ত্রী জানান, শিল্প মন্ত্রণালয় এখন থেকে নিয়মিত এ মেলার আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারা লাভবান হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এবারের মেলায় কোনো বিদেশী পণ্য প্রদর্শন কিংবা বিক্রয় করা হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মেলায় সারা দেশ থেকে বৃহৎ, মাঝারি, ক্ষুদ্র, কুটির, হস্ত ও কারু এবং হাইটেকসহ মোট ৩০০টি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। তারা ৩০০টি স্টলে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করবেন। এদের মধ্যে ১১৬ জন নারী উদ্যোক্তা এবং ১০৭ জন পুরুষ উদ্যোক্তা রয়েছেন, অর্থাৎ ৫২ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করছেন।
মেলায় দেশে উৎপাদিত পাটজাত পণ্য, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, আইটি পণ্য, প্লাস্টিক ও সিনথেটিক পণ্য, হস্তশিল্প, ডিজাইন ও ফ্যাশনওয়্যারসহ অন্যান্য বৃহৎ, মাঝারি, ক্ষুদ্র, কুটির, হস্ত ও কারু এবং হাইটেক শিল্পের স্বদেশী পণ্য প্রদর্শিত ও বিক্রয় হবে।
দেশীয় পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের পাশাপাশি মেলায় ক্রেতা-বিক্রেতা মিটিং বুথ, পিআইডির মিডিয়া সেন্টার এবং তথ্যকেন্দ্রের স্টল থাকবে। এ ছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু কর্নার এবং শেখ হাসিনা কর্নার স্থাপন করা হবে। এতে ১৯৫৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও গ্রামসহায়তা মন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর শপথ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে তার সুদীর্ঘ সংগ্রামী জীবন ও কার্যক্রম সংক্ষেপে তুলে ধরা হবে। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে বিভিন্ন সময়ে শিল্প খাতের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার বাস্তবায়িত কর্মসূচি ও উন্নয়ন কার্যক্রম প্রদর্শন করা হবে। বিশেষ করে,গত ১০ বছরে শিল্প খাতে অর্জিত সাফল্য ফুটিয়ে তোলা হবে।
মেলা উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব’ শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজন করা হবে। আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মেলা চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম চলবে। মেলায় কোনো প্রবেশমূল্য থাকবে না।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here