রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় পেল গ্রীন লাইন বাস কতৃপক্ষ

0
77

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই সময় বেঁধে দিয়ে বলেছে, ওই দিনের মধ্যে টাকা দিতে না পারলে গ্রিন লাইনের সব বাস জব্দ করার আদেশ দেওয়া হবে। সুতরাং টাকা দিতে না পরলে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ যেন ১১ এপ্রিলের কোনো টিকেট বিক্রি না করে।

এই শুনানিতে উপস্থিত থাকতে স্ত্রী-সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ক্র্যাচে ভর দিয়ে আদালতে আসেন রাসেল সরকার, যিনি আগে প্রাইভেট কার চালাতেন। গত বছর ২৮ এপ্রিল যাত্রাবাড়ীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়।

আদালতে রিটকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা। গ্রিনলাইন পরিবহনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অজি উল্লাহ। আর বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন এস এম মনিরুজ্জামান।

এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে পা হারানো রাসেলকে বুধবারের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। টাকা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার তা আদালতকে জানাতে বলা হয়েছিল।

কিন্তু সেই টাকা না দেওয়ায় এবং কোনো ধরনের যোগাযোগ না করায় বৃহস্পতিবার সকালে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী রেজা গ্রিন লাইনের মালিককে আদালতে তলবের মৌখিক আবেদন জানান।

গ্রিনলাইনের আইনজীবী ওজি উল্লাহ তখন আদালতকে বলেন, আদেশের বিষয়টি তিনি পরিবহন কর্তৃপক্ষকে জনিয়েছেন। কিন্তু গ্রিনলাইনের প্রোপাইটার চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে আছেন।

কিন্তু গ্রিনলাইন পরিবহনের প্রোপাইটার হাজী মো. আলাউদ্দিন কবে কোন দেশে গেছেন, কবে ফিরবেন- এসব প্রশ্নের উত্তর আইনজীবী দিতে না পারায় ওই কোম্পানির ব্যবস্থাপককে বেলা ২টায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।

বিচারক বলেন, “একটা সীমা থাকা উচিৎ। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ম্যানেজারকে ২টায় আসতে বলেন। সমস্ত গাড়ি সিজ করতে বলব যদি পজেটিভ স্টেটম্যান্ট না পাই।”

ওই আদেশের পর বেলা ২টায় আদালতে হাজির হন গ্রিন লাইন পরিবহনের ব্যবস্থাপক আব্দুস সাত্তার।

এ পর্যায়ের শুনানিতে রিটের বিবাদী হিসেবে বিআরটিসির আইনজীবী এস এম মনিরুজ্জামান প্রথমেই তাদের ব্যাখ্যা দাখিল করেন।

পরে গ্রিনলাইন পরিবহনের আইনজীবী অজি উল্লাহর কাছে আদালত জানতে চায়, গ্রিনলাইন পরিবহনের ব্যবস্থাপক হাজির হয়েছেন কিনা।

জবাবে অজি উল্লাহ ইতিবাচক উত্তর দিলে আদালত ব্যবস্থাপকের নাম জানতে চায়। কাঠগড়ার সামনে দাঁড়ানো গ্রিন লাইনের ম্যানেজার তখন বলেন, তার নাম আব্দুস সাত্তার।

বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের তখন জানতে চান গ্রিন লাইনের মালিক কোথায়। জাবাবে সাত্তার বলেন, হাজী আলাউদ্দিন অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য তিনি গত ৩১ মার্চ ভারতে গেছেন, দেশে ফিরবেন ৯ এপ্রিল।

হাই কোর্ট গত ১২ মার্চ রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দিলে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গিয়েছিল গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ৩১ মার্চ সকালে আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেয়। সেদিন দুপুরে হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, ওই ৫০ লাখ টাকা বুধবারের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষকে।

ম্যানেজার সাত্তারের কাছে বিচারক জানতে চান, গ্রিনলাইনের মালিক ৩১ মার্চ কখন দেশ ছেড়েছেন। আপিল বিভাগ ও হাই কোর্টের আদেশ সম্পর্কে তিনি অবগত কি না। টাকা পরিশোধের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা হাজী আলাউদ্দিন দিয়েছেন কি না।

জবাবে সাত্তার বলেন, হাজী আলাউদ্দিন ভারতের উদ্দেশে রওনা হন ৩১ মার্চ সকালে। পরে তাকে আদালতের আদেশের বিষয়টি টেলিফোনে জানানো হয়।

গ্রিন লাইনের ব্যাংক লেনদেন কীভাবে হয় তা আদালত জানতে চাইলে ব্যবস্থাপক বলেন, পরিবহন মালিক আলাউদ্দিন নিজেই সেগুলো দেখেন। চেকে তিনি নিজেই সই করেন।

এ পর্যায়ে গ্রিন লাইনের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বিচারক বলেন, “আপনার মক্কেল যে দেশে নেই, এ বিষয়ে আদালতে কোনো আবেদন দাখিল করেননি। আপনার উচিৎ ছিল এ ধরনের আবেদন দাখিল করা। আপনি কোনো পদক্ষেপই নেননি। আদালতের আদেশ নিয়ে এ ধরনের খামখেয়ালি টলারেট করব না।

“উনি (গ্রিনলাইন পরিবহনের মালিক) ৯ তারিখ দেশে আসবেন, ১০ তারিখ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে হলফনামা দেবেন। না হলে সব বাস সিজ করে ফেলব।”

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা শুনানির এ পর্যায়ে একটি নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের অনুলিপি দেখিয়ে আদালতকে বলেন, ক্ষতিপূরণের আদেশ আপিল বিভাগে বহাল থাকার পরই ‘কারসাজি করে’ গ্রিন লাইনের মালিককে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here