এরশাদ সব সম্পত্তি ট্রাস্টে দিয়ে দিলেন

0
48
ছবিঃ ফাইল

রোববার বিকালে পাঁচ সদস্যের এই ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে বলে জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খালেদ আক্তার এবং দলটির উপ দপ্তর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান জানিয়েছেন।

দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা স্ত্রী রওশন এরশাদ ও ভাই জিএম কাদেরকে ট্রাস্টি বোর্ডে রাখেননি এরশাদ। ৯০ বছর বয়সী সাবেক এই সামরিক শাসক নিজেও ট্রাস্টি বোর্ডে সদস্য হিসেবে আছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো কথা বলতে রাজি হননি জি এম কাদের।

বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদ, একান্ত সচিব অবসরপ্রাপ্ত মেজর খালেদ আক্তার, চাচাতো ভাই মুকুল ও তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

দলে পদায়ন, পদচ্যুতির নানা নাটকীয়তার মধ্যে এরশাদের বারিধারার বাসভবনে কয়েক দিন ধরেই আনাগোনা বেড়েছে তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদের। তিনি ভারত প্রবাসী হলেও তাদের ছেলে এরিক এরশাদ থাকেন বাবার সঙ্গেই। এরশাদও বিভিন্ন সফরে অন্য নেতাদের সঙ্গে এরিককে নিয়ে যান।

গত ২০ জানুয়ারি সিঙ্গাপুর রওনা হওয়ার আগে বারিধারার বাসায় এরশাদ।
ইউনিয়ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এরশাদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় লিখেছিলেন, তার নগদ টাকার পরিমাণ ২৮ লাখের মতো।

হলফনামায় এরশাদ বার্ষিক আয় দেখান ১ কোটি ৭ লাখ টাকা। ব্যবসা থেকে তিনি আয় করেন দুই লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা। ইউনিয়নের ব্যাংক থেকে সম্মানী হিসেবে ৭৪ লাখ ৭১ হাজার ১০ টাকা পান এরশাদ।

এছাড়াও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬ টাকা জমা রয়েছে। বিভিন্ন শেয়ারে এরশাদের অর্থের পরিমাণ ৪৪ কোটি ১০ হাজার টাকা। তার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ও এফডিআর ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা; ডিপিএস রয়েছে ৯ লাখ টাকার।

এরশাদ লিখেছিলেন, গুলশান ও বারিধারায় তার দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার দাম এক কোটি ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। এর বাইরে ৭৭ লাখ টাকা দামের একটি দোকান রয়েছে তার।

যানবাহনের মধ্যে তার রয়েছে ৫৫ লাখ টাকা দামের ল্যান্ড ক্রুজার জিপ, ১৮ লাখ টাকা দামের নিশান কার এবং ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের আরেকটি ল্যান্ড ক্রুজার জিপ।

বেশ কিছু দিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ এরশাদ গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে একদিনও প্রচারে যাননি। নির্বাচনের আগে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফেরার পর নির্বাচনের দিন ভোট দিতেও নির্বাচনী এলাকা রংপুরে যাননি এরশাদ।

গত ৬ জানুয়ারি আইনপ্রণেতা হিসেবে শপথ নেন এরশাদ, তবে তিনি সংসদে গিয়েছিলেন হুইল চেয়ারে চড়ে।

এরপর ২০ জানুয়ারি আবার সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন এরশাদ। তখন জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, রক্তে হিমোগ্লোবিন ও লিভারের সমস্যায় ভুগছেন তিনি।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here