যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন, ট্রাম্পের নীতি স্থগিত করলেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত

0
27
ছবিঃ ফাইল

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী কয়েকজনকে মেক্সিকো সীমান্তে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন দেশটির আদালত। অভিবাসীদের ঢল বন্ধের কর্মসূচির আওতায় ওই কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থীকে অভিবাসনসংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য অপেক্ষা করতে সীমান্তে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

আজ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সান ফ্রানসিসকোর ডিস্ট্রিক্ট জজ রিচার্ড সিবর্গের দেওয়া সাময়িক স্থগিতাদেশ শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে। প্রাথমিক এই বিধিনিষেধ দেশজুড়ে কার্যকর হবে।

অভিবাসনের জন্য আশ্রয় প্রার্থনাসংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য সীমান্তে অপেক্ষা করতে বলার কর্মসূচি এ বছরের জানুয়ারি মাসে গ্রহণ করা হয়। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের হার কমাতে নেওয়া নানা কর্মসূচির মধ্যে এটিও একটি। বেশির ভাগ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা মধ্য আমেরিকার দেশগুলো থেকে এসে ভিড় করেছেন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে। এক দশকের মধ্যে গত মাসে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল।

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের শিশুসন্তানদের আটক কেন্দ্রে বৈধভাবে আটক রাখার সময়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই অনেক পরিবারকে মুক্ত করে দিয়ে অভিবাসন মামলায় আদালতের শুনানির জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় এতটাই জট রয়েছে যে সিদ্ধান্ত পেতে বছরের পর বছর পার হয়ে যায়।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, অভিবাসী সুরক্ষা রীতিনীতির (এমপিপি) আওতায় তারা কিছু অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে মেক্সিকো সীমান্তে শুনানির জন্য অপেক্ষা করতে বলার পরিকল্পনা নিয়েছে।

এ ব্যাপারে সরকারের যুক্তি ছিল, এমপিপির প্রয়োজন রয়েছে। কারণ শুনানির অজুহাতে অনেক বেশিসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নেন। তাঁদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত না হওয়া পর্যন্ত এবং অভিবাসনবিষয়ক বিচারক তাঁদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কখনোই তাঁরা আদালতের শুনানিতে হাজির হন না।

বিচারক সিবর্গ বলেছেন, অভিবাসন ও জাতীয়করণ আইন সরকারকে এই ক্ষমতা দেয়নি যে সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের মেক্সিকোতে ফেরত পাঠিয়ে দেবে। তিনি বলেন, শরণার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া বা স্বাধীনতা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই নীতিতে যথাযথ সুরক্ষা দেওয়া হয়নি।

গতকালের আদেশ নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটাকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

আদালতের এ আদেশে অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যদিও সরকার এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে।

এল সালভাদর থেকে আসা গ্যাব্রিয়েলা ওরেলানা (২৬) নামের এক আশ্রয়প্রার্থী আদালতের আদেশের খবর শুনে আনন্দে কেঁদে ফেলেন। তিনি জানান, আজ মঙ্গলবার তাঁর মামলার প্রথম শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি জানান, দেশে অপরাধী চক্রের এক সদস্য তাঁকে গুলি করেছিল। প্রাণে বাঁচতে তিনি আট বছর বয়সী মেয়ে ও ছয় বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে এসেছেন। জানুয়ারি মাস থেকে তিনি তিজুয়ানায় অপেক্ষা করছেন। মার্কিন অভিবাসী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকারের জন্য দুই মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here