জিম্মি হয়েই পাড়ি জমান ইতালিতে

0
31

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: দালাল চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে বাড়িতে ফিরে এসেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চার যুবক। উন্নত জীবনের আশা নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিল সুদূর ইতালিতে। অবশেষে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়ে চারজন দেশে ফিরে আসলেও এখনো অপেক্ষা করছে তাদের মতো আরও অনেকে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, সংঘবদ্ধ দালাল চক্র কৌশলে যুবকদের ফুসলিয়ে সর্বস্ব হাতিয়ে নিচ্ছে।

জেলার আখাউড়া উপজেলার ইউনুস জমাদ্দারের ছেলে ইদ্রিস জমাদ্দার। প্রায় একবছর আগে তিনি স্থানীয় দালাল হুসেনের মাধ্যমে লিবিয়া যায়। সেখানে তিনি ত্রিপলির জামিয়া আরিফিয়া নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনারের চাকরি নেন। ৫/৬ মাস সেখানে তিনি চাকরি করেন। তারপর হুসেনের মাধ্যমেই সন্ধান পান লিবিয়ায় অবস্থানকারী দালাল সেলিমের। পরিচয়ের পর থেকে সেলিম প্রায়ই ফোনে যোগযোগ রক্ষা করত। প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ইদ্রিসসহ আরও ১৬ জনকে স্বপ্ন দেখাতো উন্নত জীবনের।

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা ইদ্রিসের সঙ্গে কথা হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, প্রথমে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় যাওয়ার জন্য আমাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। পরে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার জন্য আরও তিন লাখ টাকা করে নেওয়া হয়।

এরপর ত্রিপলি থেকে জোয়ারা শহরে নিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের বোরখা পরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সেখানে আমাদের একটি রুমে রাখা হয়। এরপর দালাল সেলিমের সহযোগী রাসেল আমাদের টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায়। সেখানেই দালালদের আসল চরিত্র ফুটে ওঠে।

কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, তারা আমাদের প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। প্রতিদিন আমাদের একবেলা করে খাবার দেওয়া হতো। বাড়িতে ফোন করতে চাইলে সময় নির্ধারিত থাকত ১/২ মিনিট। কিছুদিন পর তারা আমাদের জোয়ারা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার হাঁটিয়ে সমুদ্র উপকূলে নিয়ে যায়। সেখান থেকে একটি কাঠের নৌকায় করে ইতালির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

নৌকাটি ৩৩ জন ধারণ ক্ষমতার হলেও সেখানে লোক উঠানো হয় ৭৫ জন। এতে বাধা দিলে আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনদিন সাগরের ভেসে থাকার পর নৌকাটি ইতালির শূণ্য রেখায় পৌঁছায়। পরে সেখানে নৌকার তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় ইতালিতে প্রবেশ করা যায়নি। এছাড়াও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ থাকায় সামনের দিকে এগনো যায়নি। পরে তিউনিসিয়ার একটি শিপ এসে আমাদের উদ্ধার করে। ওই শিপে ২০/২৫ দিন থাকার পর রেড ক্রিসেন্ট ও আইয়ূম নামের দুইটি সংস্থার সহযোগিতায় বাংলাদেশে ফিরে আসি।

অন্যদিকে, ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা খরচ করে পরিবারের ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে স্বপন দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় পাড়ি জমান একই এলাকার বাসিন্দা খেবজু মিয়ার ছেলে সাহাজুল খন্দকার। কিন্তু সেখানে গিয়ে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। সেখানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর দেশে ফিরে আসতে হয়েছে তাকে।

ইদ্রিস এবং সাহাজুলের মতোই আখাউড়া উপজেলার নিয়ামত শিকদার ও আবু বক্কর সিদ্দিক একই রকম লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারদের দাবি, আর কোনো দালাল যাতে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করতে না পারে। তারা সরকারের কাছে এসব দালালদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের জোরালো দাবি জানান।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here