সাইবার হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বদলা গ্রহন

0
49
। ছবি: সংগৃহীত- আলজাজিরা

ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের কর্মকর্তা আমির আলি হাজিযাদে সাংবাদিকদের বলেন ওমান উপসাগরে বৃহস্পতিবার তাদের একটি অত্যাধুনিক ড্রোন বিধ্বস্ত করার বদলা হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক পথ না নিলেও ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাইবার হামলা শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক নির্ভরযোগ্য মিডিয়া রিপোর্টে বলা হচ্ছে, যে সব কম্পিউটার ব্যবহার করে ইরানের রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রক্ষেপণ ব্যবস্থা পরিচালিত হয় সাইবার হামলা চালিয়ে সেগুলো অকেজো করে দেওয়া হয়েছে।

তবে ঐ হামলায় ইরানের অস্ত্র ব্যবস্থায় কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে নিরপেক্ষ সূত্র থেকে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া রিপোর্টে বলা হচ্ছে, ওমান উপসাগরে তেলের ট্যাংকারে মাইন হামলার বদলা হিসাবে বেশ কয়েক সপ্তাহ আগেই ইরানের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশেষ করে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) অস্ত্র ব্যবস্থা টার্গেট করার পরিকল্পনা করা হয়। ইরানের সেনাবাহিনীর ক্ষমতাধর এই ইউনিট বৃহস্পতিবার মার্কিন ড্রোনটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করে।

হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারে হামলার জন্যও আমেরিকা এই আইআরজিসিকেই দায়ী করছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট এবং মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি বলছে, মার্কিন সাইবার হামলায় আইআরজিসির’র অস্ত্র ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, অন্তত কিছু সময়ের জন্য ইরানের অস্ত্র ব্যবস্থাকে বিকল করে দেওয়ার টার্গেট করা হয়।

ইরানের পাল্টা সাইবার হামলা

মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ গতকাল (শনিবার) সাবধান করে যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা জোরদার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা এবং অবকাঠামো সংস্থার পরিচালক ক্রিস্টোফার ক্রেবস বলেছেন, ‘ইরানের সরকার এবং তাদের সহযোগীরা’ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং শ্ল্পি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালাচ্ছে।

মি ক্রেবস বলেন, ‘স্পিয়ার ফিশিং’ এবং ‘পাসওয়ার্ড স্প্রেইংয়ের’ মত কৌশল কাজে লাগিয়ে ইরান অনলাইনে ‘বিধ্বংসী ওয়াইপার হামলা’ শুরু করেছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ব্যবস্থা হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করছে ইরান।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি বলছেন?

ইরানের অস্ত্র ব্যবস্থা বিকল করতে সাইবার হামলা নিয়ে কোনা কথা বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

শুক্রবার তিনি বলেন, ইরানের ওপর হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত তিনি শেষ মুহূর্তে স্থগিত করেন কারণ তার উপদেষ্টারা তাকে জানায় ঐ হামলায় দেড়শ ইরানি নাগরিকের মৃত্যু হতে পারে।

গতকাল (শনিবার) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের সাথে তিনি মীমাংসা বৈঠকে বসতে চান।

তিনি বলেন, “ইরান যদি সমৃদ্ধ একটি দেশ হতে চায়, আমার তাতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সেটি তারা কখনই হতে পারবে না যদি তারা আগামী পাঁচ-ছয় বছরের ভেতরে পারমানবিক বোমা তৈরির চিন্তা করে।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের ওপর বাড়তি নিষেধাজ্ঞা চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং দ্রুত তা কার্যকর করা হবে।

মার্কিন ড্রোন এবং ইরান

ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড বলছে, মার্কিন ড্রোন বিধ্বস্ত করে তারা ‘পরিষ্কার বার্তা’ দিতে চেয়েছে যে ইরানের সীমান্ত ‘আমাদের রেড লাইন।’

বাহিনীর একজন সিনিয়র কর্মকর্তা আমির আলি হাজিযাদেহ বলেন, ৩৫ জন যাত্রীসহ আমেরিকার আরেকটি সামরিক বিমানও ড্রোনটির কাছাকাছি ছিল।

“আমরা সেটিকেও ধ্বংস করতে পারতাম, কিন্তু তাতে মানুষ থাকায় আমরা তা করিনি।”

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here