এরশাদ মৃত্যুশয্যায়, চিকিৎসার টাকা এখনও জোগাড় করতে পারিনি: রাঙ্গা

0
49
মশিউর রহমান রাঙ্গা

সচেতন বার্তা, ২৯ জুন:জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চিকিৎসার অর্থের সংস্থান হয়নি বলে সংসদে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির  মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি বলেছেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মৃত্যুশয্যায়। তবে তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা এখনও জোগাড় করতে পারিনি। আমরা তাকে যে চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে যাব, সেই অবস্থাও তার নেই।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারন আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের সদস্যদের সংসদে বক্তব্য রাখতে হলে বিরোধী দলের প্রধান হুইপের কাছ থেকে সময় নিতে হয়। বিএনপির এমপিরা এসে আমার কাছ থেকে সময় নিচ্ছে আবার আমাদের বিরুদ্ধে আজে বাজে উক্তি করছে। আমি তাদের সময় দিচ্ছি, আর তারা নানা জায়গায় আমাদের পার্টির চেয়ারম্যানকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করছে। এই ধরনের অশ্লীল ভাষা একমাত্র বিএনপি’র নেতাকর্মীরাাই বলতে পারে।
বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, সেই তো নথ খসালি তবে কেন লোক হাসালি। বিএনপি’র শাসন আমালে আমার ছেলেকে অপহরণ করা হয়। তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে বলেছিলেন পিনুর সঙ্গে কথা বলতে। পিনু হচ্ছে তারেক রহমানের আরেক নাম। আমি আগে কখনো হাওয়া ভবনে যাইনি, কারণ সেখানে গেলেই একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করত। যেহেতু তাদের সঙ্গে তখন আমাদের একটা সমঝোতা হওয়ার কথা ছিল।
জাতীয় পার্টি বিরোধী দল নয় আমরাই বিরোধী দল বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের এমন বক্তব্যের জবাবে বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আমাদের দলের চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলতেন আমরা সরকারের সঙ্গে থাকব। যেহেতু আমরা এক সঙ্গে নির্বাচন করেছি, কাজেই আমরা সরকারের থাকতে পারতাম। কিন্তু যেহেতু সংসদে বিরোধী দলের প্রয়োজন সেকারনেই আমরা বিরোধী দলের একটা অবস্থানে রয়েছি। সেই বিরোধী দলেও বিএনপি’র ৫ জন রয়েছে।
কারাগারে এরশাদের নির্যাতনের সেই দিনের বর্ণনা করে রাঙ্গা বলেন, আমার নেতাকে যেখানে রাখা হয়েছিল সেখানে বাথরুম পর্যন্ত সিটি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল সে লাফ দিয়ে বের হয়ে যেতে পারেন। অথচ তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নিজেও জানতেন না একদিন তাকেও জেলে যেতে হবে।
এসময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেন, এরশাদ সাহেবের সময় যেহেতু কোন লোককে দেখতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় নাই, এখন ওনার (খালেদা জিয়ার) সঙ্গে যে মহিলাকে দেওয়া হয়েছে তাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। তার বাথরুমে সিটি ক্যামেরা বসানো উচিত, উনিও বের হয়ে যেতে পারেন।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here