ছোট্টমনি সায়মার ধর্ষক গ্রেপ্তার, হত্যার স্বীকারক্তি প্রদান

0
30
৭ বছরের শিশু সায়মাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হারুন অর রশিদ। ছবি: সংগৃহীত

সচেতন বার্তা, ৭ জুলাই:৭ বছরের শিশু সামিয়া আক্তার সায়মাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে পুলিশ কুমিল্লার ডাবরডাঙা এলাকা থেকে হারুন অর রশিদ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হারুন সায়মাদের বাড়ি যে ভবনে, সেটিরই আটতলার বাসিন্দা পারভেজের খালাতো ভাই। তাঁর বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। এক মাস ধরে হারুন আটতলার ওই ফ্ল্যাটেই ছিলেন।

হারুন পারভেজের রঙের দোকানে কাজ করতেন। পরিবারসহ ছোট্ট সায়মা থাকত ওই ভবনের ষষ্ঠ তলায়।

এদিকে নৃশংসভাবে সায়মাকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে তার সহপাঠীরা। সকালে সিলভারহেড স্কুলের সামনে মানববন্ধন করে তারা। পরে সেখানে বিক্ষোভ করা হয়। শিক্ষার্থীরা ছাড়াও অভিভাবক ও শিক্ষকরা বিক্ষোভে অংশ নেন।

এ সময় হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়। এ ধরনের ঘটনা আর যেন না ঘটে সে ব্যাপারে এখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা।

ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানান। পুলিশ বলছে, হারুনই ভবনের অন্য একটি ফাঁকা ফ্ল্যাটে নিয়ে সায়মাকে হত্যা করেছেন। পুলিশ বলছে, ফাঁকা ফ্ল্যাটটিতে নির্মাণকাজ চলছিল। এ কারণে সেখানে কেউ বসবাস করছিল না।

এর আগে ওসি জানিয়েছিলেন, ‘তদন্তের ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। আমরা অপরাধীকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। হত্যাকারী একজনই।’

সামিয়ার বাবা আব্দুস সালামও বলেন, ‘শুনেছি আমার মেয়ের হত্যাকারী শনাক্ত হয়েছে। হত্যাকারী অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।’

নিহত সামিয়া আফরিন সায়মার স্বজনদের আহাজারি। ওয়ারী, ঢাকা, ৫ জুলাই। মাসুম আলীগত শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে ওয়ারীর বনগ্রাম মসজিদের সামনের ভবনের নির্মাণাধীন একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় সাত বছরের শিশু সামিয়া আফরিন সায়মার লাশ। সে সিলভারডেল স্কুলের ছাত্রী ছিল।

গতকাল শনিবার বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে সায়মার মরদেহের ময়নাতদন্ত করেন সোহেল মাহমুদ। তদন্ত শেষে সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘বাহ্যিকভাবে শিশুটির গলায় রশি দিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করার আলামত পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার ঠোঁটে কামড়ের চিহ্ন এবং যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, এ আলামত আমরা পেয়েছি।’ সোহেল মাহমুদ বলেন, এ ব্যাপারে আরও স্পষ্ট হতে হাই ভ্যাজাইনাল সোয়াবের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সব নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। এসব প্রতিবেদন পাওয়া গেলে শিশুটির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহত সায়মার বাবা আব্দুস সালাম শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাগরিবের আজানের সময় আমি নামাজ পড়তে মসজিদে যাই। মসজিদ থেকে ফেরার সময় সন্ধ্যার নাশতা কিনে বাসায় আসি। বাসায় এসে দেখি সায়মা নেই। আমি, আমার স্ত্রীসহ সায়মাকে খুঁজতে শুরু করি। ছয়তলা ও আটতলায় খুঁজে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে আবার আটতলায় খুঁজতে গিয়ে রান্নাঘরে তার লাশ পাওয়া যায়।’

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here