মির্জাপুর ছাত্রলীগ কমিটিতে হত্যা মামলার আসামী, প্রতিবাদে ১১ নেতাকর্মীর পদত্যাগ

0
136
আহবায়ক কমিটিতে হত্যা মামলার চার্জশিটভূক্ত আসামি ও বিএনপি পরিবারের সদস্যদের রাখায় পদত্যাগের এই ঘটনার সুত্রপাত।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটিতে হত্যা মামলার আসামী ও বিএনপি পরিবারের সদস্যদের রাখায় ১১ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। ওই ইউনিয়নের নবগঠিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটিতে হত্যা মামলার আসামি ও বিএনপি পরিবারের একাধিক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করায় তারা পদত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সম্মেলন স্থগিত করে উপজেলা ছাত্রলীগ। উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ওই ইউনিয়নে ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির জন্য নেতাকর্মীদের নামের তালিকা চাওয়া হয়। পরে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমন্বয় করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নামের একটি তালিকা উপজেলা ছাত্রলীগের কাছে জমা দেন।

কিন্তু উপজেলা ছাত্রলীগ ওই তালিকা থেকে কয়েকজনের নাম বাদ দিয়ে হত্যা মামলার আসামিসহ বিএনপির পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে উপজেলা ছাত্রলীগ একটি আহবায়ক কমিটি গঠনের পর দলীয় প্যাডে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করে। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সিয়াম একজন আহবায়ক, ৪ জন যুগ্ম আহবায়ক ও ১৬ জন সদস্যের নাম উল্লেখ করে ১৮ জুলাই প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেন।

ওই আহবায়ক কমিটিতে হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের বানিয়ারা গ্রামের মৃত সৈয়দ রেজার ছেলে সৈয়দ শাহ তৈয়ব জিহাদকে ২নং যুগ্ম আহবায়ক (মামলা নং ০৬, তারিখ ০৩-০৭-২০১৪) ও জামুর্কী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি লুৎফর রহমানের ছেলে মো. আশিকুর রহমান প্রান্তকে ৩নং এবং বিএনপি সমর্থিত আবু হানিফ মিয়ার ছেলে সোয়াইব ইসলাম অন্তরকে ৪নং যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আহবায়ক কমিটির ১নং যুগ্ম আহবায়ক এস এম রায়হান হোসেন সেতুসহ ১১ পদত্যাগ করেছেন।

২নং যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ শাহ তৈয়ব জিহাদ নিজেকে হত্যা মামলার চার্জশিটভূক্ত আসামি স্বীকার করে বলেন, তাকে ওই হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

পদত্যাগ করা যুগ্ম আহবায়ক এস এম রায়হান হোসেন সেতু ও সদস্য জাহিদুল ইসলাম রিফাত, মো. আল আমিন সিকদার ও আশিক মিয়া জানান, জামুর্কী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের গঠিত আহবায়ক কমিটিতে হত্যা মামলার চার্জশিটভূক্ত আসামি ও বিএনপি পরিবারের সদস্যদের রাখায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিকরা পদত্যাগ করেছি।

জামর্কী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ছানোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আমেরুল মোমিনিন সাদ্দাম বলেন, যাদের দিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে তাদের অনেকেই ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়।

জামুর্কী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইলিয়াস আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম জরিপ জানান, জামুর্কী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের সমন্বয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরিক্ষিত, মেধাবী ও কর্মঠ কয়েকজন সৈনিকের নামের তালিকা উপজেলা ছাত্রলীগের কাছে দেওয়া হয়েছিল।

উপজেলা ছাত্রলীগ ওই তালিকা থেকে কয়েকজনকে বাদ দিয়ে তাদের ইচ্ছেমত নাম অন্তর্ভুক্ত করে প্রকাশ করেছে। কমিটিতে যাদের রাখা হয়েছে তাদের অনেকেই আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ওই কমিটির ১১ জন পদত্যাগ করেছেন বলে তারা জানান।

মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন খান যুগ্ম আহবায়ক জিহাদ হত্যা মামলার আসামি স্বীকার করে বলেন, অন্য দুইজনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে অবগত হয়েছি। আগামী বর্ধিত সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here