ল্যাবএইড, পপুলার ও ইবনে সিনাকে জরিমানাঃ ডেঙ্গুর পরীক্ষা

0
131
ডেঙ্গুর পরীক্ষার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বাড়তি টাকা নেওয়ায় রাজধানীর ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ইবনে সিনা হাসপাতালকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের নেতৃত্বে শুনানির পর প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা হয়। অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার অভিযোগের শুনানির পর ল্যাবএইডকে ৫০ হাজার এবং ইবনে সিনাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আরেফিন জানিয়েছেন।

আগের দিন একই অপরাধে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে মাসুম আরেফিন জানান। ঢাকায় ব্যাপক হারে মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় গত রোববার এর পরীক্ষা ডেঙ্গু এনএস১-এর ফি ৫০০ টাকা বেঁধে দেয়। এর আগে ঢাকার অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালে এই টেস্টের জন্য ১০০০-১২৫০ বা তার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হত।

সরকারের এই নির্দেশনার পরও পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ১২০০ টাকা করে নেওয়ায় সোমবার অভিযান চালিয়ে তাদের ওই জরিমানা করা হয় বলে মাসুম জানান।

এছাড়া মঙ্গলবার গ্রিন লাইফ হাসপাতাল, সেন্ট্রাল হাসপাতাল ও ল্যাব সায়েন্সকে তলব করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে ডেঙ্গুর পরীক্ষার জন্য সরকার নির্ধারিত ৫০০ টাকার অতিরিক্ত হিসেবে রক্ত নেওয়ার সূচ ও তা রাখার ভ্যাকুয়ামের জন্য বাড়তি ৩০-৪০ টাকা করে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের তলব করা হয়েছে বলে সহকারী পরিচালক মাসুম জানান।

জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে ল্যাবএইডের সহকারী মহাব্যাবস্থাপক সাইফুর রহমান লেলিন বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনেই তারা রোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত টাকা নিচ্ছেন।“পাশাপাশি সফটওয়্যার আপডেট চলছে। এজন্য কিছু সময় লাগছে। এরইমধ্যে একজন রোগীর দুটো টেস্ট একসঙ্গে করানোর কারণে আগের লিংক চলে আসায় এটি হয়েছে।”

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক অচিন্ত্য কুমার নাগ বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু ডেঙ্গু রোগীদের ছাড় দেওয়ার কথা। কিন্ত অন্য সব রোগীদের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার ওই একটিই। সেখান থেকে ডেঙ্গু রোগীদের ডিসকাউন্ট দিয়ে সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে। পাশাপাশি সফটওয়্যার আপডেট চলছে। কিন্তু তারা সাময়িক ডিসকাউন্ট বিষয়টি না মেনে জরিমানা করেছে, যা ঠিক হয়নি।”

এদিকে ডেঙ্গু শনাক্তকরণে রক্ত পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ইমেজিং সেন্টারের কনসালটেন্ট অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা হয়েছে।

ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. রমজান আলী সরকার ওরফে রানা সরদার মঙ্গলবার এ মামলা করেন। ঢাকার মহানগর হাকিম মো. দিদার হোসাইন বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ধানমণ্ডি থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অপর আসামিরা বলেন- ধানমণ্ডিস্থ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ইমেজিং সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইবনে সিনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ইবনে সিনা হাসপাতালের চেয়ারম্যান।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী গত ২৫ জুলাই প্রচন্ড জ্বর নিয়ে ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোডের ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ইমেজিং সেন্টারে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা ডেঙ্গু এনএস১, ডেঙ্গু এজিজি ও সিবিসি পরীক্ষা করতে দেন। পরদিন ২৬ জুলাই রিপোর্ট সংগ্রহ করে দেখতে পান রক্তের প্লাটিলেট ৭ লাখ ৮৪ হাজার সিএমএম। প্লাটিলেট লেভেল স্বাভাবিক থেকে অনেক বেশি হওয়ায় বাদী ভেঙে পড়েন। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর একই দিন বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রক্তের সিবিসি পরীক্ষা করেন। সেখানকার রিপোর্টে রক্তের প্লাটিলেট ২ লাখ আসে, যা ছিল স্বাভাবিক লেভেলের মধ্যে

“ইবনে সিনার প্রতারণামূলক ভুল রিপোর্টের ভিত্তিতে বাদী ওষুধ সেবন করলে শারীরিক, মানসিক ও অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতেন এবং জীবননাশেরও সম্ভাবনা ছিল,” বলা হয়েছে মামলায়।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here