মামলা না থাকলেও মাদকের গডফাদার তিনি

0
46

প্রবাসে বসেই মাদক ব্যবসা চালান তিনি। এ কাজে তাকে সহায়তা করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেট সদস্যদের মাধ্যমেই ভারত থেকে আসা গাঁজার চালান নানা কৌশলে তিনি পৌঁছে দেন সারা দেশে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে নেই কোনো মামলা। কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কখনো তিনি গ্রেপ্তারও হননি। তবে গোয়েন্দা নথিভুক্ত মাদক চক্রের শক্তিশালী এক গডফাদার তিনি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা উত্তর শাখার অবৈধ মাদক উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
এ বিষয়ে ডিএমপি গোয়েন্দা উত্তর শাখার উপকমিশনার মশিউর রহমান ভোরের কাগজকে জানান, একজন প্রভাবশালী মাদক গডফাদারের সন্ধান পেয়েছেন তারা। কিন্তু বিদেশে থাকায় কয়েকবার অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি এখনো। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। তবে তদন্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে অভিযুক্ত গডফাদারের বিস্তারিত পরিচয় জানাতে রাজি না হলেও গোয়েন্দা পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেই গাঁজার চালান আসছে। তবে বিজিবি ও পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির ফলে এর প্রকোপ অনেকটাই কমে এসেছে।

গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর এলাকার বাসিন্দা হলেও ওই ব্যক্তি দেশে থাকেন না। আমদানি-রপ্তানির বড় ব্যবসায়ীর পরিচয় ছাড়াও এলাকাবাসী তাকে চেনেন একজন দানবীর হিসেবে। আর বাইরেও কখনো স্থায়ীভাবে এক জায়গায় বাস করেন না তিনি। কখনো সৌদি আরব, কখনো দুবাই বা কুয়েত আবার কখনো ভারত এমনি করেই পাল্টাতে থাকেন তার অবস্থান। এই গডফাদারের মাসিক বেতনভুক্ত কর্মী রয়েছে। যাদের ম্যানেজার বলা হয়। তারাই তার হয়ে ভারতীয় মাদক ডিলারদের কাছে থেকে কিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ও নলগরিয়া গ্রামে গাঁজা মজুদ করে। আর সীমান্ত এলাকায় হওয়ায় এ গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির ফলে মাদক আনতে নানা প্রতিক‚লতা থাকায় এখন গাঁজার দাম বেড়েছে। আগে ৭ হাজার টাকা কেজিতে গাঁজা বিক্রি হলেও এখন কয়েক হাত ঘুরে তা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময় চালানো অভিযানে গাঁজা সিন্ডিকেট সদস্যদের কাছ থেকে ১ হাজার ৩৭১ কেজি অর্থাৎ ৩৭ মণ গাঁজা উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা উত্তর শাখার অবৈধ মাদক উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিম। সম্প্রতি গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিনব কায়দায় গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতর লুকিয়ে আনা ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ ৩ জনকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে এ বেরিয়ে আসে গ্রেপ্তারকৃতরা এ সিন্ডিকেটেরই সদস্য। অভিযানটির নেতৃত্ব দেন গোয়েন্দা উত্তর শাখার অবৈধ মাদক উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহবুব আলম। তিনি জানান, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার ৩ জনসহ এ চক্রের ৪০ জন বাহককে তারা বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করেছেন। সে সময় গাঁজা পরিবহনের কাজে

ব্যবহৃত ৯টি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান আটক করা হয়। কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ দিয়ে আগে বেশিরভাগ সময় গাঁজার চালান এনে সারা দেশে পাঠাতো। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হওয়ায় তারা পথ পরিবর্তন করে সুনামগঞ্জ থেকে নদী পথে ধর্মপাশা, মধ্যনগর দিয়ে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলে আসার চেষ্টা করছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাদের ওই গডফাদার সৌদি আরব, দুবাই আবার কখনো ভারতে অবস্থান করে দেশে অবাধে গাঁজা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু দেশেই নয় বিদেশেও গাঁজা চোরাচালানসহ সারা দেশে অবৈধ মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে তাকে কেউ চেনে না। কারণ, ম্যানেজার বা যারাই মাদক পরিবহনসহ অন্যান্য কাজ করে তাদের কেউই তাকে চেনে না। চালান সংগ্রহ ও কোথাও পাঠাতে হলে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করে নির্দেশনা দেন তিনি। তবে তদন্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে গডফাদারের নাম প্রকাশ না করলেও তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান গোয়েন্দা এ কর্মকর্তা।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here