বস টাইটানিক ব্ল্যাক টাইগার মেসি ও রজু বিক্রি হয়ে গেছে

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে বস, ব্রাহামা জাতের মেসি ও রজু এবং যুক্তরাজ্যের টাইটানিক আকাশপথে উড়ে এসেছে ঢাকায়। কার্গো বিমানে চেপে উন্নত প্রজাতির এসব গরু দেশে এসেছে এক বছরেরও বেশি সময় আগে। তাদের সঙ্গে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান ও হল্যান্ডের ক্রস ব্ল্যাক টাইগার গরু। রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের সাদেক এগ্রোতে এসব গরুর সঙ্গে আরো রয়েছে ভারতের হারিয়ানা প্রজাতির বলদ, দেশি-বিদেশি ষাঁড়, রাজস্থান, পাঞ্জাব ও অন্ধ্রপ্রদেশের উন্নত প্রজাতির খাসি এবং ভেড়া। সেখানে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে ৬০ লাখ টাকা মূল্যের গরু রয়েছে। এসব বিক্রি হচ্ছে দেদার। হরেক নামের বিশাল আকৃতির এসব কুরবানির গরু এখন দেশজুড়ে আলোচিত।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন সাদেক এগ্রোর অল্প দূরত্বের দুটি ফার্মের সামনের রাস্তায় দেখা যায় দামি মডেলের গাড়ির ভিড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত নারী পুরুষ দলে দলে ভিড় করছেন সেখানে। এদের কেউ গরু-ছাগল কিনতে আবার কেউ এমনিতে দেখতে যান। ক্রেতার তালিকায় রয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের নাম। ফার্মের মালিক বরাবরের মতো এবারো শখ করে আকর্ষণীয় কিছু গরুর নামও রেখেছেন। এবারের বিশেষ আকর্ষণ ৩৮ লাখ টাকার বস, সাড়ে ১৭ লাখ টাকার টাইটানিক, ১৩ লাখ টাকার ব্ল্যাক টাইগার, ২৪ লাখ টাকার মেসি ও ২৫ লাখ টাকার রজু বিক্রি হয়ে গেছে অনেক আগেই। এরমধ্যে রজুর ক্রেতা জানিয়েছেন গরুটি তিনি এ বছর নয় লালন-পালন করে সেটি আগামী বছর কুরবানির ঈদে জবাই করবেন। তবে বিক্রি হলেও ফার্মের আকর্ষণ ধরে রাখতে এসব গরু রয়েছে সাদেক এগ্রোতে। প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ প্রবল আগ্রহ নিয়ে সেগুলো দেখতে ও ছবি তুলতে ভিড় করছেন সেখানে। বস গরুর ওজন ১ হাজার ৪৫০ কেজি। ১১-১২ ফিট লম্বা আকৃতির টাইটানিকের ওজন দেড় হাজার কেজি। মেসির ওজন ১৪শ কেজি।
সাদেক এগ্রোর ইনচার্জ মাইদুল ইসলাম জানান, তাদের সংগ্রহে প্রায় দেড় হাজার ষাঁড় গরু রয়েছে। যার মূল্য ৬০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত। হারিয়ানা ও দেশি জাতের বলদ গরু রয়েছে প্রায় ৩শ। যার মূল্য ৩ লাখ থেকে শুরু করে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত। খাসি ও ভেড়া রয়েছে শতাধিক। ১০০ কেজি থেকে শুরু করে ১৬০ কেজি পর্যন্ত ওজনের এসব খাসির মূল্য দেড় লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা।

এ ছাড়া দেশি খাসির মূল্য ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। অস্ট্রেলিয়ার বিটল ও সাউথ আফ্রিকার বোয়ারও রয়েছে তাদের সংগ্রহে। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আনা গরু ও ছাগল তারা দেশ থেকে ক্রয় করেন আবার নিজেরা আমদানিও করেন। বিশেষ করে ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান ও অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে তারা খাসি আমদানি করে থাকেন। সারাবছরই দেশজুড়ে খোঁজখবর করে চলে তাদের সংগ্রহ কাজ। কুরবানির জন্য বিশেষ যত্নে এসব গরু, খাসি ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয় এবং ঈদের আগেই সব বিক্রি হয়ে যায়। পুরনো এবং নিয়মিত ক্রেতার বাইরেও রয়েছে নতুন ক্রেতা। বছরজুড়ে বাছাই করে গরু-ছাগল সংগ্রহের পর কুষ্টিয়ার খামারে এসব লালনপালন করা হয়। তবে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধের ফার্মে বড় আকৃতির গরু ও ছাগলের বিশেষ যত্ন চলে। এ জন্য রাখালসহ দুশতাধিক লোক দিনরাত কাজ করে আসছে। মাইদুল ইসলাম বলেন, ঈদের আকর্ষণীয় বস, টাইটানিক, ব্ল্যাক টাইগার, মেসি, রজুর মতো বড় আকৃতির ১০টি গরু ছিল। সবই বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতি বছর এমনি হয়।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here