২১শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলা এবং বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী

0
77
জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে ক্ষমতাসীন দলের সবার্থে পুলিশকে ব্যবহারের এই সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটান। পুলিশের বেতন, সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করেন যাতে তারা অবৈধ আয় করার চিন্তা করতে বাধ্য না হন। পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের প্রথম শ্রেনী ও উপ-পরিদর্শক দের দ্বিতীয় শ্রেনীতে উন্নীত করন। ছবিঃ ফাইল।

আজ ২১ শে আগষ্ট, সেই ভয়াল দিন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শ নেতাকর্মী। তাদের অনেকে আজও শরীরে গ্রেনেডের স্পি­ন্টার নিয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন।

এই গ্রেনেড হামলা ঘটনার মামলা নিয়ে ঘটে বহু রটনা, সাজানো হয় জজ মিয়া নাটক। সেই নাটক এর নির্দেশনা ও প্রযোজনার দায়িত্তে ছিলো বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী। মঞ্চস্থ করার দায়িত্তে নিয়োজিত ছিল সিআইডির কয়েক জন কর্মকর্তা।

২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার ঘটোনায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাজানো নাটকের নায়ক জজ মিয়া। ছবিঃ ফাইল।

গতকাল যুগান্তরকে জজ মিয়া, সেই নাটকের রিহার্সেল ও তাকে মিথ্যা চরিত্রে অভিনয়ে রাজী করাতে যে অমানুষিক নির্যাতিত হতে হয়েছিল সেই লোমহর্ষক ঘটনার আদ্যপ্রান্ত বর্ননা দিয়েছেন। জজ মিয়া তার বর্ননায় বলেছেন, ২১শে আগষ্টের হামলার প্রতিবাদে মিছিলে সে নিজেও ছিল একজন প্রতিবাদী। সিআইডির কর্মকর্তা আবদুর রশিদ সেনবাগ থানায় গামছা দিয়ে তার চোখ বেঁধে মারধর শুরু করে। তাকে বলে,”তুই এত বড় একটা হামলা করে দেশে এসে বসে রইছস,মনে করছস তোকে ধরতে পারব না।” চোখ বাঁধা অবস্থায় গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।গাড়ি থেকে নামিয়ে বলে, “আমরা যেটা বলি তুই সেটা স্বীকার করিস, আর না হলে তোর নামে ৪-৫টা মার্ডার কেস দেখিয়ে তোকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বানিয়ে ক্রসফায়ারে দিয়ে দেব।”

জজ মিয়ার ভাষায়, “সি আই ডি অফিসারদের প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় আমাকে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে  ফ্যানে ঝুলিয়ে পায়ের তলায় পিটিয়েছে, আমার ডান হাতের হাড় ফাটিয়ে দিয়েছে। রিমান্ডে তারা ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেছে। রিমান্ডে থাকার সময় বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমান নিয়মিত এসে আমার সঙ্গে দেখা করে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে বলতেন, তাদের কথামতো যদি আমি স্বীকারোক্তি দিই, তাহলে বেঁচে থাকব। তাছাড়া যত দিন আমি জেলে থাকব, তত দিন আমার পরিবারের ভরণপোষণ দেবে সিআইডি। ৩০ দিন নির্যাতনের পর জীবন বাঁচাতে শেখানো স্বীকারোক্তি দিতে তাদের কথায় রাজি হলাম।”

সে বলে, “আমি ভয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দায় স্বীকার করে তাদের শেখানো গল্প বলে যাই। আমি যে পয়েন্টটা ভুলে যেতাম, বলতে পারতাম না, ওইগুলো তারা আমাকে বলে দিত। জবানবন্দিতে আমি বলি, পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে বড়ভাইদের নির্দেশে আমি অন্যদের সঙ্গে গ্রেনেড হামলায় অংশ নিই। বড়ভাইয়েরা হচ্ছেন সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, জয়, মোল্লা মাসুদ ও মুকুল। জজ মিয়া বলেন, আমি এসব সন্ত্রাসীকে কোনো দিন দেখিওনি। তিনি বলেন, আমি যে চাপে পড়ে স্বীকারোক্তি দিচ্ছি, তা বলার সুযোগও ছিল না। পাশেই সিআইডি কর্মকর্তারা বসা ছিলেন।”

আদালত এ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দিলে ২০০৯ সালে মুক্তি পান জজ মিয়া। এ বছরই সিআইডি এ মামলার অধিকতর তদন্ত করে। ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। তাতে আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়। এতে ফেঁসে যান জজ মিয়া নাটকের সাথে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারাও। এ মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় হয়। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসির দণ্ড, তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়।

বাহিনীর সদস্যদের রেশনের পরিমান বৃদ্ধি, আবাসনের জন্য শত শত একর জমি পুলিশের নামে বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। অত্যাধুনিক যানবাহন ও উন্নত মানের অস্ত্র আমদানি করে ঢেলে সাজান এই বাহিনীকে। বর্তমান সরকারের সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার ফলেই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী এখন বিশ্বের কাছে একটি রোল মডেল। ছবিঃ ফাইল।

ক্ষমতায় আসীন হওয়া রাজনৈতিক দলগুলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনৈতিকভাবে নিজেদের সবার্থে, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেই ব্যবহার করে আসছিল। এরই ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের পুলিশ নিজেদের বাহিনীকে আপদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্থ্য করবার সুযোগ পায়। সেই সুযোগের সদব্যবহার করে বস্তা বস্তা টাকা লুটে সাধারন জনগনকে জিম্মি করে।

জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে ক্ষমতাসীন দলের সবার্থে পুলিশকে ব্যবহারের এই সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটান। পুলিশের বেতন, সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করেন যাতে তারা অবৈধ আয় করার চিন্তা করতে বাধ্য না হন। পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের প্রথম শ্রেনী ও উপ-পরিদর্শক দের দ্বিতীয় শ্রেনীতে উন্নীত করন, বাহিনীর সদস্যদের রেশনের পরিমান বৃদ্ধি, আবাসনের জন্য শত শত একর জমি পুলিশের নামে বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। অত্যাধুনিক যানবাহন ও উন্নত মানের অস্ত্র আমদানি করে ঢেলে সাজান এই বাহিনীকে। বর্তমান সরকারের সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার ফলেই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী এখন বিশ্বের কাছে একটি রোল মডেল।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here