বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধি, মন্ত্রীসভায় নীতিগত অনুমোদন

0
45
২০১৮ সালের মার্চে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের চিত্র। ছবিঃ ফাইল।

বিমানে ভ্রমণের সময় দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রীর মৃত্যু হলে বা আঘাতপ্রাপ্ত হলে, ব্যাগেজ পেতে দেরি হলে বা হারিয়ে গেলে বা ক্ষয়ক্ষতি হলে; কার্গো পেতে দেরি হলে, হারিয়ে গেলে বা ক্ষয়ক্ষতির হলে এ আইনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া যাবে।

দুর্ঘটনায় যাত্রীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে এ আইনের আওতায় প্রথম ধাপে আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ হবে এক লাখ ৬০ হাজার ডলার, এখন যার পরিমাণ অনেক কম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আকাশপথে পরিবহন (মন্ট্রিয়ল কনভেনশন, ১৯৯৯) আইন, ২০১৯’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, “আইনের মূল ফোকাসটা হচ্ছে বিমানযোগে যাত্রী, ব্যাগেজ ও কার্গো পরিবহন- এগুলোর ক্ষেত্রে মৃত্যু বা ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে আমরা যেন প্রতিকার পেতে পারি।”

১৯৯৯ সালের আগে বিশ্বব্যাপী বেসামরিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থা পরিচালিত হত ওয়ারশ কনভেনশন দিয়ে। এরপর মন্ট্রিয়ল কনভেনশনের মাধ্যমে বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এবং যাত্রীর সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা হয়।

বাংলাদেশ ২০০৩ সালে মন্ট্রিয়ল কনভেনশনে সই করলেও তা সক্রিয় করার জন্য রাষ্ট্রীয় অনুমোদন (র‌্যাটিফাই) না দেওয়ায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারিত হত পুরনো ওয়ারশ কনভেনশন অনুযায়ী। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “মন্ট্রিয়ল কনভেনশন হল বিশেষত যাত্রীদের অধিকার সম্পর্কিত। বিমানে আরোহকারী যাত্রীর মালামাল পরিবহন, মৃত্যুর কারণ ও যাত্রীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হলে এটা অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু আমাদের আইনে এটা এতদিন ছিল না। আইন না থাকায় আমরা সুবিধাটা নিতে পারিনি।”

প্রস্তাবিত আইনে মন্ট্রিয়ল কনভেনশনের বিধানগুলো ‘মোটামুটিভাবে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান শফিউল আলম।

দেড় বছর আগে নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “তারা যে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে তা খুবই সামান্য, এটা মন্ট্রিয়ল কনভেনশনের আওতায় হলে অনেকগুণ বেশি হত; কমপক্ষে জনপ্রতি এক কোটি ৪০ লাখ টাকার মত পেতেন। কিন্তু সেটা পাননি, ১২ হাজার ডলারের মতো পেয়েছেন।”

আকাশপথে যাত্রী, ব্যাগেজ ও কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোর দায়-দায়িত্ব খসড়া আইনে স্পষ্ট করা হয়েছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, আঘাতে যাত্রীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ হবে এক লাখ এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস, আইএমএফের সম্পূরক আন্তর্জাতিক মুদ্রা), যার পরিমাণ এক লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের মত। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) নির্ধারিত এটা।”

এছাড়া ব্যাগেজ হারানোর ক্ষতিপূরণ আগে ছিল প্রতি কেজিতে ২৫ ডলার, নতুন আইনে তা ৭০ ডলার হচ্ছে। কার্গোর ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ২৫ ডলার থেকে বেড়ে ২৭ ডলার হচ্ছে। এসব ক্ষতিপূরণ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “এয়ারলাইন্সকে যাত্রীদের ইন্সুরেন্স করতে হবে। ইন্সুরেন্স করলে তাদের সুবিধা। তারা ইন্সুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেবে।”

কোনো ব্যক্তি এ আইন বা আইনের অধীনে প্রণীত বিধি বা প্রবিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া আইনে।

“যাত্রীর মৃত্যু হলে এয়ারলাইন্স যদি ঠিকমতো ক্ষতিপূরণ না দেয়, তাহলে তাদের ওপর এই জরিমানাটা আরোপ করা হবে।”

দেশি-বিদেশি যত এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডে চলাচল করবে, তাদের এ আইন মেনে চলতে হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here