মাকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

0
46
মাকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে মামলা। ছবিঃ প্রতিকী।

গত রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার চিকাশি ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে মা খুকি খাতুনকে (৬৫) পুড়িয়ে মারার অভিযোগ ওঠে ছেলে সোহানুর রহমানের (২৯) বিরুদ্ধে।

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বৃদ্ধ মাকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার রাতে মামলা হয়েছে। ঘটনার এক দিন পর নিহত মায়ের বড় ছেলে বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, আসামি ছেলের কক্ষ থেকে ইয়াবা বড়ি ও ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, গজারিয়া গ্রামের আবদুস সামাদ মণ্ডলের ছেলে সোহানুর রহমান প্রায় চার বছর ধরে মাদকাসক্ত। প্রতিদিন তিনি নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে মা-বাবার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য কেনার টাকা নিতেন। এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার বিকেলে মা-বাবার কাছে মাদক কেনার টাকা চাইলে তা দিতে অক্ষমতার কথা জানান মা–বাবা। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে মা খুকি খাতুনকে ঘরের ভেতর খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে মোটরসাইকেলের ট্যাংক থেকে পেট্রল নিয়ে শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

খুকি খাতুনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। পরে গ্রামবাসী ছেলে সোহানুর রহমানকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। বড় ছেলে জাকির হোসেন বাদী হয়ে গতকাল রাতে ভাই সোহানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পরে মাকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান বলেন, মাদকের টাকা না পেয়ে সোহানুর রহমান তাঁর মাকে পুড়িয়ে মেরেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সোহানুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁর ঘর থেকে মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, সোহানুর রহমানকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ দুপুরের দিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here