নরসিংদীতে স্ত্রীর পরকীয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে, স্ত্রীর হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করলেন স্বামী

0
51
দীপার পরিবারের দাবী, সোমবার দিবাগত রাত ৩ টায় স্বামী বিষ্ণু সূত্রধর শ্বশুরের পেনশন থেকে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীর ডান হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে দীপার ছোট ভাই রাজীব চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় বিষ্ণু সূত্রধরকে আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। পরে মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ তাকে আটক করেছে।
আহত দীপা চন্দ্র সূত্রধর নরসিংদী পৌর শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অবসরপ্রাপ্ত সদস্য দিলীপ সূত্রধরের মেয়ে। তার স্বামী বিষ্ণু সূত্রধরের বাড়ি কুড়িগ্রামে।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দুজ্জামান বলেন, বুধবার বিকালে গ্রেফতারকৃত স্বামী বিষ্ণু সূত্রধর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সে স্ত্রীর পরকীয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছেন।

আহত দীপা চন্দ্র সূত্রধর নরসিংদী পৌর শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অবসরপ্রাপ্ত সদস্য দিলীপ সূত্রধরের মেয়ে। তার স্বামী বিষ্ণু সূত্রধরের বাড়ি কুড়িগ্রামে।

দীপার ছোট ভাই রাজীব চন্দ্র সূত্রধর বলেছেন, যৌতুকের দাবিতে তার বোনের হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।। সোমবার দিবাগত রাত ৩ টায় স্বামী বিষ্ণু সূত্রধর শ্বশুরের পেনশন থেকে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীর ডান হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করে।

আহত দীপার পরিবারের লোকজন জানায়, সম্প্রতি দীপার বাবা দিলীপ সূত্রধর বিজিবির সদস্য পদ থেকে অবসর নিয়ে পেনশনের কিছু টাকা পেয়েছেন। শ্বশুরের সেই টাকার প্রতি লোভ জন্মায় বিষ্ণুর। পরে তিনি ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। কিন্তু দীপা এ কথা বাবাকে বলতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে সোমবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বিষ্ণু তার শ্বশুর বাড়ি নরসিংদীর পশ্চিম কান্দাপাড়ায় আসেন। রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে পরিবারের সবার সঙ্গে রাত ১টা পর্যন্ত আড্ডা দেন। রাত ৩টার দিকে আকষ্মিক বিষ্ণু চাপাতি দিয়ে স্ত্রী দীপার ডান হাতের বাহু থেকে কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এ সময় দীপা চিৎকার দিলে চাপাতির কোপ মুখের ডান গালে ও বাম হাতে লাগে।

এতে গালের মাংস কেটে যায়। চিৎকার শুনে বাবা দিলীপ সূত্রধর, মা অরুণা সূত্রধর ও ভাই রাজিব সূত্রধর এসে দীপাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল ও পরে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশ বিষ্ণু রায়কে আটক করেছে।

আহত দীপা সূত্রধর বলেন, ঘুমের মধ্যে হঠাৎ চাপাতি দিয়ে আমার হাত কেটে ফেলে। তারপর ও আমাকে গলা কাটার চেষ্টা করে কিন্তু পারেনি। সেই আঘাতই আমার গালে ও বাম হাতে কোপ লেগেছে। সে নাকি আমাকে খুন করার পর আমার দুই ছেলে মেয়েকেও খুন করত।

দীপার ছোট ভাই ও মামলার বাদী রাজীব সূত্রধর বলেন, রাত ১টা পর্যন্ত দিদি ও বোন জামাইয়ের সঙ্গে আমি আড্ডা দেই। রাত ৩ টায় দিদির চিৎকারের শব্দ শুনে গিয়ে দেখি জামাইবাবু দিদির ডান হাত কেটে ফেলে দিয়েছে। মুখের গাল ও বাম হাতের কোপের আঘাত। তবে তাদের মধ্যে কোনো ঝগড়া করতে শুনিনি।

ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শরীফ বলেন, আহত দীপার ডান হাত পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া তার মুখের ডান পাশে লম্বালম্বিভাবে মাংস আলাদা হয়ে গেছে। আর বাম হাতেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।

নরসিংদী সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বলেন, আহতের ছোট ভাই রাজীব সূত্রধর বাদী হয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় বুধবার স্বামী বিষ্ণু রায়কে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর ঘটনাস্থল থেকে চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here