মিথ্যা বলেছে ছাত্রলীগ, চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন জাবি উপাচার্য

0
60
ছবিঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলাম।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেগা প্রকল্পে টাকা ভাগাভাগিতে উপাচার্য ও শাখা ছাত্রলীগ জড়িত বলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ বানোয়াট- দাবি করেছেন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম।

“শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ ব্যাপারে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনটির দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, তারা কোন সাহসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওই খোলা চিঠি লিখল সেটা তাকে বরং অবাক করেছে।”

“আজ শনিবার দুপুরে উপাচার্য তার বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

ছাত্রলীগের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের ব্যাপারে উপাচার্য বলেন, যেকোনো ধরনের অনুসন্ধান করলে আপনারাও জানতে পারবেন এ ধরনের কিছু হয়েছে কি না। আমার আর বেশি কিছু বলার নেই।”

“কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে তিনি বলেন, “তাদের (ছাত্রলীগ) মূল উদ্দেশ্য ছিল যে তারা ঠিকাদারের কাছ থেকে কিছু কমিশন নেবে। তারা বলেছে অন্যান্য জায়গায় নাকি ৬ পারসেন্ট পর্যন্ত দেওয়া হয়। কিন্তু নাকি শুনেছে আমাদের এখানে কম তাই বলেছে আপনি এটা এত কমাতে পারেন না। আমি বলেছি, আমি এটা কমানো বাড়ানোর কেউ না। আমার সঙ্গে টাকা নিয়ে কথা বলো না। সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছে, সাক্ষাৎ শেষ করে চলে যেতে পার। তাদের ইঙ্গিতে সাড়া নেওয়ায় তারা হতাশ হয়েছে ক্ষুব্ধ হয়েছে।”

“প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো খোলা চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে খোলা চিঠি লিখেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছাত্রলীগের বক্তব্যকে গল্প আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, তারা কোন সাহসে এটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখল আমি সেটাই বরং ভাবছি।”

“গতকাল শুক্রবারও অধ্যাপক ফারজানা অভিযোগ করে বলেন, এক হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার ক্যাম্পাস উন্নয়ন প্রকল্পের ‘৪ থেকে ৬ শতাংশ’ চাঁদা দাবি করেছিলেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।”

“প্রথমদিকে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি অস্বীকার করে আসলেও, রাব্বানী গতকাল সাংবাদিকদের  কাছে স্বীকার করেছেন যে, উপাচার্যের কাছে তারা তাদের ‘ন্যায্য পাওনা’ দাবি করেছিলেন। তবে টাকার পরিমাণটি কত ছিলো তা জানাতে রাজি হননি। ‘ঈদের খরচ’ হিসেবে ওই টাকা দাবি করেছিলেন বলেও জানান তিনি।”

“জাবির উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা হয়ে না দাঁড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রদানের জন্য রাব্বানী উল্টো উপাচার্য ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।

ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন কিনা, উত্তরে তিনি বলেন, তারা চ্যালেঞ্জ ছুড়তে পারবে না। তারা গল্প ছুড়েছে। চ্যালেঞ্জ আমি ছুড়ে দিলাম। এ বিষয়ে আমি তদন্ত করতে বলব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে, মাননীয় আচার্যকে। আমি যাব তাদের কাছে।”

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here