বিক্রি করা সন্তান ফেরত দাবিতে:

বরিশাল জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারকের সামনে বিষপান

0
69
প্রতীকী ছবি।

গতকাল রবিবার বিকেলে বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিক্রি করা সন্তান ফেরত দাবি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানীকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারকের সামনে প্রকাশ্যে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এক নারী। আত্মহত্যার চেস্টাকারী পারভীন বেগম নামে ওই নারী জেলার বানারীপাড়া উপজেলার নলশ্রী গ্রামের কবির হোসেনের স্ত্রী।

আদালতের প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, পারভীনের তেমন খোঁজ খবর রাখে না তার স্বামী। এর আগে সে তার গর্ভের দুই সন্তান বিক্রি করে দিয়েছিলো। সর্বশেষ গত জানুয়ারী মাসের দিকে তার আরও একটা পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। আব্দুল্লাহ নামে ওই নবজাতক পুত্র সন্তানকে গত ২৯ জুন রোয়েদাদনামার মাধ্যমে একই উপজেলার বেতাল গ্রামের নিঃসন্তান গাফফার ফরাজীর স্ত্রী নাছরিন আকতারের কাছে এক লাখ টাকায় বিক্রি করেন পারভীন। কিছুদিন পর পারভিন আবারও নাছরিনের কাছে টাকা দাবি করে। নাছরিন টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি তার নবজাতক সন্তান ফেরত চায়। এক পর্যায়ে পারভীন বানারীপাড়া থানা পুলিশের স্মরনাপন্ন হয়। থানা পুলিশ উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে পারভীনকে টাকা ফেরত দিয়ে সন্তান ফেরত দেওয়ার পক্ষে মতামত দেয়। কিন্তু পারভীন টাকা না দিয়েই সন্তান ফেরত দাবি করে।এ ঘটনায় শিশু সন্তান জোর করে রেখে দেওয়ার অভিযোগ করে ওই সন্তান উদ্ধারের দাবিতে গত ২৪ জুলাই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন পারভীন বেগম। আদালত বিবাদী নাছরিনকে সন্তানসহ আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ দেন। 

রবিবার মামলার ধার্য তারিখে নাছরিন আদালতে উপস্থিত হয়ে আইনজীবী হুমায়ূন কবিরের মাধ্যমে সন্তান নেয়ার সময় করা রোয়েদাদনামা দাখিল করেন। বাদী পারভীনকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সাক্ষর করার কথা অস্বীকার করেন। এ সময় পারভীন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দাড়িয়েই সন্তান না দিলে কোমড়ে গুজে রাখা কীটনাশকের বোতল বের করে পান করতে উদ্যত হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূম্পা ঘোষ হতচকিত হয়ে ওঠেন। এ সময় বিচারক নিজেই পারভীনকে বিষপান করতে বাঁধা দেয় এবং তার হাত থেকে কীটনাশকের বোতল ছিনিয়ে নেয়। পারভীনকে কিছুক্ষণ বসিয়ে রেখে শুনানী মুলতবি করেন আদালত। পরে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানীর নতুন দিন ধার্য করেন।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here