শিকলবন্দীর ২৫ বছর

0
45

রতন মিয়াকে দেখার জন্য তাঁর কক্ষে পা রাখতেই চোখ তুলে তাকালেন। তবে তাঁর চাহনিতে কোনো জিজ্ঞাসা ছিল না। মেঝেতে হাঁটু ভাঁজ করে বসেছিলেন। দৃষ্টি সরিয়ে ভাবলেশহীনভাবে কুঁজো ভঙ্গিতে মাথা নিচের দিকে নামিয়ে নিলেন। দিনের বেশির ভাগ সময় তিনি এই কক্ষে এভাবেই থাকেন। পায়ে শিকল বাঁধা থাকায় কক্ষ থেকে বের হতে পারেন না। ২৫ বছর ধরে তিনি এভাবে শিকলবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন।

রতন মিয়ার বয়স এখন ৫৫ বছর। বন্দী জীবন শুরু হয় ২৭ বছর বয়স থেকে। ২৮ বছর আগে মাথায় আঘাত পেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যান। দুর্ঘটনার তিন বছর পর থেকে তাঁকে শিকলবন্দী করা হয়।

রতন মিয়াকে দেখার জন্য তাঁর কক্ষে পা রাখতেই চোখ তুলে তাকালেন। তবে তাঁর চাহনিতে কোনো জিজ্ঞাসা ছিল না। মেঝেতে হাঁটু ভাঁজ করে বসেছিলেন। দৃষ্টি সরিয়ে ভাবলেশহীনভাবে কুঁজো ভঙ্গিতে মাথা নিচের দিকে নামিয়ে নিলেন। দিনের বেশির ভাগ সময় তিনি এই কক্ষে এভাবেই থাকেন। পায়ে শিকল বাঁধা থাকায় কক্ষ থেকে বের হতে পারেন না। ২৫ বছর ধরে তিনি এভাবে শিকলবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন।

রতন মিয়ার বয়স এখন ৫৫ বছর। বন্দী জীবন শুরু হয় ২৭ বছর বয়স থেকে। ২৮ বছর আগে মাথায় আঘাত পেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যান। দুর্ঘটনার তিন বছর পর থেকে তাঁকে শিকলবন্দী করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, রতন মিয়া অবিবাহিত। পড়াশোনা তেমন করেননি। বাড়িতে কৃষিকাজ করতেন। প্রায় ২৮ বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পান। এ কারণে বছর তিনেক পর মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন তিনি। এর পর থেকেই তাঁকে শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে।

রতন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির পূর্বপাশের বসতঘরের বারান্দার একটি ছোট অন্ধকার কক্ষের মাঝখানে একটি ছোট কংক্রিটের পিলার। পিলারটি তৈরি করা হয়েছে রতন মিয়াকে শিকলে বেঁধে রাখার জন্য। পিলারটির সঙ্গে মেঝেতে বিছানা পাতা। সেখানেই হাঁটু ভাঁজ করে বসেছিলেন রতন মিয়া। শিকলের এক প্রান্ত তাঁর ডান পায়ে বাঁধা। অন্যপ্রান্ত পিলারে আটকে রাখা। মেঝেতে পাতা বিছানা যেখানে শেষ হয়েছে, সেখানে কোনো আড়াল ছাড়াই একটি কমোড। বোঝা গেল, শেকল পায়েই যেন রতন মিয়া টয়লেট করতে পারেন, সে কারণেই এ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রতন মিয়ার বড় ভাই আঙুর মিয়া বলেন, রতন মিয়া আর দশজনের মতোই সুস্থ ও সবল ছিলেন। কৃষিকাজের পাশাপাশি সংসারের কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে করতেন। প্রায় ২৮ বছর আগে একদিন গরু বাঁধার খুঁটিতে মাথার একপাশে প্রচণ্ড আঘাত পান রতন। প্রচুর রক্তপাত হয়। স্থানীয়ভাবে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিছুদিন পর রতন অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেন। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে কয়েক দফা চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। পরে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

আঙুর মিয়া আরও বলেন, বাড়িতে আনার পর রতনের অস্বাভাবিক আচরণ বাড়তে থাকে। বাড়ির বাইরে গেলে লোকজনের ওপর চড়াও হতেন এবং লোকজনকে মারতে শুরু করতেন। তাই বাধ্য হয়ে তাঁকে বাড়িতে শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে। তবে তাঁর সেবাযত্ন ও খাওয়া দাওয়ায় যেন কোনো কমতি না হয়, সে ব্যাপারে তাঁরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন বলে জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হাসান বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। খোঁজখবর নিয়ে রতনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

source: prothomalo

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here