ঋণের চাপেই স্স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা

0
54
ছবি সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজ ফ্ল্যাটের শোয়ার ঘর থেকে ব্যবসায়ী বায়েজিদকে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং মা ও ছেলেকে বিছানায় মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলছে পুলিশ।

রাজধানীর মিরপুরে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের মাঝে বইছে শোকের মাতম। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায় লোকসান ও ঋণের চাপ এবং হতাশা থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এস এম বায়েজিদ। যতই মানসিক চাপ থাকুক আত্মহত্যার মতো এমন সিদ্ধান্ত কেউ যেন না নেয় এমন মন্তব্য করেন মৃত স্ত্রী কোহিনূর পারভীনের ভাই ফারুক।

মনোরোগ বিশেজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপের চরম পর্যায়ে গেলে আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে মানসিক চাপ থাকলে দুর্ঘটনা এড়াতে পরিবার ও ডাক্তারদের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি বলে মনে করেন তারা।

বায়েজিদের স্ত্রী কোহিনূর পারভিনের বড় ভাই ফারুক জানান, ব্যবসায় লোকশান ও ব্যাংক থেকে ঋণের চাপ বহন করলেও আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বায়েজিদ এমন কোন লক্ষণ ধরা পড়েনি তাদের চোখে।

নিহত কোহিনূর পারভীনের ভাই হাফিজুর রহমান ফারুক বলেন, গার্মেন্টস ব্যবসায় যখন ফলডাউন করেছে তখন মানসিক অবস্থার অবনতি হয়। হয়তো ব্যাংক লোন ছিলো। ব্যবসায় তো লাভ-লোকসান থাকে, আমাদেরও লোকসান হয়। ব্যবসা করার ক্ষেত্রে মানসিকভাবে শক্ত হতে হবে। এখানে ভেঙে পড়লে চলবে না।

ব্যবসায় লোকশান, পারিবারিক কলহের মতো ঘটনায় মানসিক চাপ চরমে গেলেই মানুষের মাঝে হত্যা বা আত্মহত্যার প্রবণতা আসে বলে জানান মনোরোগ বিশেজ্ঞরা।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ফরিদা আক্তার বলেন, হতাশা থেকে মূলত আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ে। এ ব্যাপারে পরিবারের সাথে আলোচনা করা ভালো। তাতে প্রেসার অনেক কমে। অথবা কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞর সাথে দেখা করা যেতে পারে।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কাফরুল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here