অনিয়মের মাধ্যমে অর্থোপার্জন করা :

রাঘববোয়ালদের কর ফাইল তলব করতে যাচ্ছে এনবিআর

0
36
অনিয়মের মাধ্যমে অর্থোপার্জন করেছেন তাদের কর ফাইল অনুসন্ধান করছে । ইতোমধ্যে ক্যাসিনোকাণ্ডে যাদের নাম এসেছে তাদের কর ফাইল তলব করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চুনোপুঁটির পরে এবার তলব করতে যাচ্ছে রাঘববোয়ালদের কর ফাইল। যারা অনিয়মের মাধ্যমে অর্থোপার্জন করেছেন তাদের কর ফাইল অনুসন্ধান করছে । ইতোমধ্যে ক্যাসিনোকাণ্ডে যাদের নাম এসেছে তাদের কর ফাইল তলব করা হয়েছে। এ ছাড়াও আরো অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী অনেক কর ফাইল এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্ট সেলের (সিআইসি) নজরদারিতে রয়েছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ১৪ জনের ব্যাংক হিসাব তলবের পাশাপাশি কর ফাইল সিআইসি থেকে তলব করা হয়েছে। এসব কর ফাইলে দেয়া ব্যক্তির তথ্যের সত্যতা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। আরো নতুন করে রাঘববোয়ালদের ফাইল নিয়ে কাজ করছে এনবিআরের এই গোয়েন্দা সংস্থা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন কর অঞ্চলের সার্কেল থেকে এসব রাঘববোয়ালদের কর ফাইল এনে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এতে কোন ধরনের অস্বাভাবিক কর ফাইলে দেয়া তথ্যে অসামঞ্জস্য দেখলে তাদের বিষয়ে এনবিআর আইনি প্রক্রিয়ায় যাবে।

এনবিআর সূত্র জানায়, ক্যাসিনোকাণ্ড বন্ধে সরকারের আইনি প্রক্রিয়া শুরুর পর নড়েচড়ে বসে এনবিআর। এরই সঙ্গে এসব অবৈধ ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িতদের কর ফাইল তলব করে এনবিআর। কর ফাইল যাচাই বাছাই করে এদের ব্যাংক হিসাব তলব করে প্রতিষ্ঠানটি। এসব ক্যাসিনো হোতাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টিজেন্ট ইউনিটকে চিঠি দেয় এনবিআর। প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের অংশ হিসেবে এনবিআর এসব নজরদারি শুরু করেছে।

ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে সর্বপ্রথম যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। একে একে পিডব্লিউডির ঠিকাদার জি কে শামীম এবং তার পিতা আফসার উদ্দিন মাস্টার, মাতা আয়েশা আক্তার, স্ত্রী শামীমা সুলতানা ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মেসার্স জি কে বিল্ডার্সের নামে বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য কোনো নামে অতীতে বা বর্তমানে অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হয়ে থাকলে অবরুদ্ধ করে জরুরি ভিত্তিতে জানাতে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ইতোমধ্যে জিকে শামীমের এক দেহরক্ষীর নামে মানিলন্ডারিং আইনে মামলাও হয়েছে। ক্যাসিনোকাণ্ডের মূলহোতা যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও তার পরিবারের হিসাব জব্দ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বর্তমান সংসদ সদস্য নুরন্নবী চৌধুরী শাওন, তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরী, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, বিসিবির পরিচালক লোকমান ভূঁইয়া, অনলাইন ক্যাসিনোর প্রধান হোতা সেলিম প্রধান, কৃষক লীগের সদস্য ফিরোজ এদের ব্যাংক হিসাবও তলব করা হয়। এ ছাড়া রাঘববোয়ালদের কর ফাইল খতিয়ে দেখছে এনবিআরের এই গোয়েন্দারা। এ ক্ষেত্রে এসব অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীর মদদদাতাদের ফাইলও রয়েছে এনবিআর নজরদারিতে।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ক্যাসিনো অভিযান শুরুর পর থেকে কিভাবে দেশে এসব যন্ত্রপাতি আসে সেই বিষয়ে অনুসন্ধান চালায় এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানটি ক্যাসিনো আমদানি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন এনবিআরে দাখিল করেছে। এই প্রতিবেদনে ক্যাসিনো সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানি করেছে এমন ২৯ চালান এবং ২০ প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমদানিকারকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। শনাক্ত করা আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শুনানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here