ছাত্রীদের শারীরিকভাবে হেনস্থা, অশালীন অঙ্গভঙ্গি, ৭ স্কুলশিক্ষক গ্রেফতার

0
24
ছবিঃ প্রতিকী।

ভারতের ছত্তীসগড়ের বলোদাবাজারে মারদা গ্রামের একটি সরকারি স্কুলে খোদ স্কুলের শিক্ষকদের দ্বারাই প্রতিনিয়ত হেনস্থার শিকার হচ্ছিলেন স্কুলের নবম-দশম শ্রেণির ছাত্রীরা। কখনও ছাত্রীদের লক্ষ্য করে কটূ মন্তব্য, অশালীন অঙ্গভঙ্গি আবার কখনও পড়া বোঝানোর নামে শারীরিক হেনস্থা। প্রতিবাদ করলেই পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি। ভয় আর আতঙ্কে স্কুলের পথ মাড়ানোই বন্ধ করে দিয়েছিলেন ছাত্রীরা। শেষে খবর যায় চাইল্ড লাইনে। সবার অগোচরেই পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসেন দুই ছাত্রী। পুলিশি তৎপরতায় গ্রেফতার করা হয় স্কুলের সাত শিক্ষককে।

এক ছাত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, গত বছর জানুয়ারিতে নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রীদের পিকনিকে নিয়ে গিয়েছিলেন এই শিক্ষকরা। সেখানে তাদের দেখে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন কয়েকজন। অভিযোগ, দু’জন ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানিও করা হয়। পরে ভয় দেখিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে দেন শিক্ষকরা।

পুলিশ জানিয়েছে, মারদা গ্রামের একটি সরকারি স্কুলে এমন নৈরাজ্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ। এমনকি পরিবারকেও কিছু জানাননি ছাত্রীরা। সব দেখেও মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষও। ছাত্রীদের শারীরিক হেনস্থা করার অপরাধে সেই সরকারি স্কুলের গ্রেফতারকৃত শিক্ষকরা হলেন, দেবেন্দ্র খুন্তে (৩৮), রামেশ্বর প্রসাদ সাহু (৩৯), মহেশ কুমার বর্মা (৩৭), দীনেশ কুমার সাহু (৩৮), চরণ দাস বাঘেল (৩৯), রূপনারায়ণ সাহু (৩৬) ও লালরাম বারভানশ।

শুধু তাই নয় ছাত্রীদের অভিযোগ, যখন তখন টিচার্স রুমে ডেকে পাঠিয়ে তাদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হত। শিক্ষক রামেশ্বর প্রসাদ প্রায়ই অশালীন মেসেজ পাঠাতেন ছাত্রীদের। হুমকি দিতেন পরিবারকে কিছু জানালে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেবেন। গত বৃহস্পতিবার নবম শ্রেণিরই দু’জন ছাত্রী লুকিয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে ওই শিক্ষকদের নামে অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে সাতজন শিক্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ। খবর সূত্র : দ্য ওয়াল।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here