সিরাজগঞ্জে ব্যবসায়ীর সুন্দরী বধুর সাথে উল্লাপাড়া মেয়রের হানিমুন!

0
145
উল্লাপাড়ার পৌর মেয়র আ.লীগ নেতা এস. এম নজরুল ইসলাম ও তাঁর ২য় স্ত্রী সহকারী শিক্ষিকা গুলশানারা পারভীন পান্না। ছবিঃ ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ব্যবসায়ী রাজন আহমেদের স্ত্রী সহকারী শিক্ষিকা গুলশানারা পারভীন পান্নাকে বিয়ে করে উল্লাপাড়ার পৌর মেয়র আ.লীগ নেতা এস. এম নজরুল ইসলাম করেছেন হানিমুন। এই ঘটনায় উল্লাপাড়া উপজেলার সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় চলছে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও প্রভাবশালী মেয়রের ভয়ে ব্যবসায়ী রাজন মামলা দূরের কথা, কোথাও কোনো অভিযোগ কিংবা তার সুশ্রী বধু ও ১৬ বছর বয়সী সন্তানের মাতা গুলশানারা পারভীন পান্নাকে ফিরিয়ে নিতে কোনো শালিসও ডাকতে পারেননি।

বর্তমানে উল্লাপাড়া উপজেলার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট বাজারের সর্বত্র মেয়র নজরুল ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী পান্নার সমুদ্র সৈকতে হানিমুন হচ্ছে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু। হানিমুন থেকে ঘুরে এসে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পৌর এলাকার সকল প্রোগ্রামসহ নানা অনুষ্ঠানে পান্না এখন মেয়র নজরুলের নিত্যসঙ্গী। তবে হানিমুনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হবার পর এখন অনেকে মুখ খুলছেন।

এদিকে মেয়র নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই স্কুলে অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন গুলশানারা পারভীন পান্না। একদিনের ছুটি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অনুপস্থিত তিনি। তবে স্কুলে না এলেও বেতন ঠিকই তুলছেন পান্না। পৌর মেয়রের স্ত্রী হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিংবা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা মুখ খুলতে নারাজ।

জানা যায়, উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম কয়েক বছর আগে পৌর এলাকার ঝিড়িকা বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যান। ওই অনুষ্ঠানেই সহকারী শিক্ষিকা গুলশানারা পারভীন পান্না নজরে পড়েন মেয়রের। নজরে পড়ার কয়েকবছর পরে হলো ঘোষিত হানিমুন।

গুলশানারা পারভীন পান্নার সাবেক স্বামী ব্যবসায়ী রাজন আহমেদ বলছেন, আমার দীর্ঘ ১৮ বছরের সংসার ভেঙে তছনছ করে দিয়েছেন মেয়র নজরুল ইসলাম। আমাদের একমাত্র সন্তান রয়েছে। আমার স্ত্রীকে জোরপূর্বক মেয়র সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তুলে নিয়ে বিয়ে করেছেন এবং হুমকি দিয়ে বলে গেছেন, এ বিষয়ে মুখ খুললে আমাকে ও আমার সন্তানকে হত্যা করা হবে। আমার স্ত্রীকে জোরপূর্বক বিয়ে করায় আমার মান-মর্যাদা ধুলায় মিশে গেছে। আমার সন্তানও স্কুলে মর্যাদা পায় না। বহু কষ্টে জীবনযাপন করছি আমরা। তারপরও সবসময় মেয়রের লোকজন আমাকে নানা প্রকার চাপের মধ্যে রেখেছে। কোনো অভিযোগ যেন কোথায় না করি, করলেই আমাকে হত্যা করা হবে বলে ভয় দেখায়। তাদের ভয়ে আমি কোনো ব্যবস্থা নেইনি। তবে মেয়র পদের মেয়াদ শেষ হলে সকল আইনি ব্যবস্থা আমি গ্রহণ করবো। তাদের ভয়ে আমি সন্তানকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এ বিষয়ে রোববার সকালে উল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন রায় বলেছেন, গুলশানারা পারভীন পান্নার ঝিড়িকা বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকতে মেয়র নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয়। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমার বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন। তবে স্কুল ফাঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, পৌর এলাকায় স্কুল, পৌর এলাকার মেয়রের স্ত্রী, ফাঁকি দিলে আমাদের কিছু করার থাকে না।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধি অন্যের স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করতে পারেন না। কারণ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা হচ্ছেন সকলের অভিভাবক। অথচ সেই অভিভাবকই যদি অন্যের স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেন তাহলে সেই এলাকার জনগণ বিচার চাইবে কার কাছে?

উল্লাপাড়ার সাধারন জনগনের আলোচনা সমালোচনায় জনমনে এমন প্রশ্নেরও উদ্ভব দেখা গেছে, শিক্ষিকা গুলশানারা পারভীন পান্না, মেয়র নজরুল ইসলামের অর্থ-বিত্ত, প্রভাব- প্রতিপত্তি দেখে লোভাতুর হয়েই যদি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করেই এই বিয়ে করে থাকে? তবে দায়ী কি শুধু জনপ্রতিনিধি মেয়র নজরুল ইসলামেরই?

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here