ব্যাবসায়ীর অভিযোগ:

ডাচ-বাংলা ব্যাংক কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে গ্রাহকের টাকা

0
1528

দৈনিক সচেতন বার্তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন- ০১

রাজধানীতে ডাচ বাংলা ব্যাংক একাউন্ট থেকে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জনৈক ব্যাবসায়ী। ইতিমধ্যে তিনি এই ব্যাংকের সেবার বিনিময়ে গ্রহন করা সেবামু্ল্যের বিষয়ে এবং সেবার নামে হয়রানির অভিযোগে ডাচ বাংলা ব্যাংককে অভিযুক্ত করে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের  মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন। একইসাথে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে প্রতারনার অভিযোগে সরকারের কেন্দ্রীয় অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার(জিআরএস) অধীনেও অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি অর্থ বিভাগের প্রশাসন অধিশাখার যুগ্মসচিব মোঃ সাইদুর রহমান অভিযোগ গ্রহনকারী হিসেবে গ্রহন করেছেন।
উভয় অভিযোগ গতকাল (২৩শে জুন) করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে ও নাম প্রকাশে অনিচ্চছুক উক্ত অভিযোগকারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, অভিযোগকারী ব্যাবসায়ী ডাচ বাংলা ব্যাংকের একজন গ্রাহক। তিনি তাঁর একাউন্টের ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও ই-কমার্স সেবা ব্যবহার করে থাকেন। প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় বেশিরভাগ সময়ই তিনি ডাচ বাংলার মাষ্টার্ড ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে থাকেন।
গত ১৯শে মার্চ তাঁরিখে তিনি ঢাকার ‘আর্টিশান’ এর একটি শো-রুমে পন্য ক্রয়ের পর মূল্য পরিশোধের জন্য তাঁর মাষ্টার্ড ডেবিট কার্ড দেন। কার্ডটি ডাচ বাংলা ব্যাংকের পজ মেশিনে সুইপ করা হলে ব্যাংক কতৃক ট্রানজেকশান ডিক্লাইন করা হয়। ট্রানজেকশান ডিক্লাইন করা হলেও ওই ব্যাবসায়ীর মোবাইলে একাউন্ট থেকে টাকা ডেবিট হওয়ার ম্যাসেজ আসে।
ট্রানজেকশান ডিক্লাইন করায় তিনি অপমানিত বোধ করে উক্ত শো-রুমে অবস্থান করেই ব্যাংকের হেল্পলাইন নাম্বারে (১৬২১৬) ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে অভিযোগ হিসেবে নিতে বলেন। অতঃপর তিনি উক্ত ট্রানজেকশান কেন ডিক্লাইন করা হয়েছে তাঁর কারন জানতে চেয়ে ডাচ বাংলা ব্যাংকের কাস্টমার কমপ্লেইন সার্ভিসের(সিসিএস) দায়িত্তে থাকা কর্মকর্তা সুবীর দত্তকে ইমেইল করেন। মেইলে তিনি হেল্পলাইনে করা অভিযোগের নাম্বারসহ বিস্তারিত উল্লেখ করেন। উক্ত মেইলের কার্বন কপি ব্যাংকটির সেন্ট্রাল ম্যানেজমেন্ট(সিএমসি) বরাবরও দেন। মেইলের প্রতি উত্তরে সুবীর দত্ত জানিয়েছিলেন, বিষয়টির কারন উতঘাটনের জন্য ইতিমধ্যে তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ শুরু করেছেন।
এরই মধ্যে ২৫শে মার্চ ‘কেএফসি’ রেষ্টুরেন্টে খাবার বিল পরিশোধ করতে গেলে পূনরায় একই ভাবে ট্রানজেকশান ডিক্লাইন করা হলে তিনি আবারো একইভাবে অভিযোগ করেন ও ব্যাংকেও মেইল করে অভিযোগ জানান। এবারও তাঁর একাউন্ট থেকে টকা কাটার ম্যাসেজ তিনি পান।
সবশেষ গত ২৪শে মে বেস্ট ইলেকট্রনিক্স থেকে একটি এয়ারকন্ডিশান মেশিন ক্রয় করতে গিয়েও একই ঘটনার শিকার হন। এবারো তাঁর একাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিয়েও ট্রানজেকশান ডিক্লাইন দেখায়। প্রত্যেকবারই তাঁর একাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হলেও কোন টাকাই আজ পর্যন্ত ব্যাংক তাঁর একাউন্টে ফেরত প্রদান করেনি।
ব্যাংক থেকে ২৪০ টাকা ফি দিয়ে তোলা একাউন্ট এর বিবরনী, ব্যাবসায়ীর অভিযোগ করা প্রত্যেকটি মেইল এবং ব্যাংকের ১৬২১৬ হেল্প লাইন নাম্বারে প্রত্যেকবার করা অভিযোগ এর রেকর্ডকৃত অডিও তথ্য বিশ্লেষনেই অভিযোগের সত্যতা মেলে।

 

চোখ রাখুন আগামীকালের পর্বে বিস্তারিত আরো…….

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here