কলু দলের সম্পাদক হয়ে গড়েছে সম্পদের পাহাড় আশীর্বাদে ‘দুর্জয়’

0
24

মানিকগঞ্জ-১ আসনের এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয় এখন এলাকাবাসীর কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক। তার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতারা। এলাকার তিন উপজেলায় তার পেটোয়া বাহিনীর তিন প্রধানের অপকর্ম চলছে প্রকাশ্যেই।

শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কলু কুদ্দুসের ভয়ে দলীয় নেতাকর্মী বা সাধারণ জনগণ মুখ খুলে কিছু বলতে সাহস পায় না। দুর্জয়ের ক্যাডার বাহিনীর অন্যতম নাম ‘কলু কুদ্দুস’। জমি দখল, বালুর ব্যবসাসহ চরাঞ্চলে নিজের ছেলেকে দিয়ে তিনি মাদকের হাট বসিয়ে জমজমাট ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছেন দুর্জয়ের হুকুমে। সূত্রঃ বা.প্রতিদিন

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে দেখা যায়, কলু কুদ্দুস কখনো ছাত্রলীগ, যুবলীগ না করে ‘এমপি লীগ’ করেই শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর দুর্জয়ের প্রধান হাতিয়ার হয়ে জমি দখল ও যমুনার চর কেটে বিক্রি শুরু করেন। তার ছেলে শিবালয় উপজেলার ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান মীম অন্যায়পুর নামে গ্রামে সন্ধ্যার পর মাদকের হাট বসান। মাদকের হাটে গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, কেরুসহ নারীও পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষ ভয়ে কিছু বলার সাহস দেখায় না। যদি কেউ ভুল করেও কোনো ধরনের প্রতিবাদ করে তবে তাকে অর্থনৈতিক, শারীরিক কিংবা প্রশাসনিক ঝামেলা পোহাতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা বলেন, শিবালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের নাম মাত্র একটি কমিটি আছে। এখানে চলে ‘এমপি লীগ’। যারা এ লীগের অনুসারী তাদের ক্ষমতার দাপটে আমরা প্রবীণরা হারিয়ে গেছি। এই উপজেলা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের কারণে আওয়ামী লীগ নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। শিবালয় ‘এমপি লীগের’ পেটোয়া বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস কুদ্দুস ওরফে কলু কুদ্দুস। তার প্রধান কাজ হলো জমি দখল, চর থেকে বালু কেটে বিক্রি করা এবং ছেলেকে দিয়ে মাদক ব্যবসা চালানো। এ ধরনের অপকর্মের সাহসের যোগান দিচ্ছেন এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয়। আর কোনোদিন ছাত্রলীগ যুবলীগ না করেই কলু কুদ্দুস উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

জমি বেদখলের ভূক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার ১২ শতাংশ জমি দখল করে পাকা ভবন তৈরি করেছেন কুদ্দুস। আমাকে এবং আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় বাধ্য হয়েই জমি রেখে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে এসেছি। আমরা তার সঙ্গে পারবো না। কারণ তার সঙ্গে এমপি আছে। কিছু বললে মেরে ফেলবে।

শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস কুদ্দুস (কলু কুদ্দুস) বলেন, আমি ছাত্রলীগ যুবলীগ করিনি তবে আওয়ামী লীগ করেছি। যে কারণেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো।

আপনার বিরুদ্ধে জমি দখল, বালু লুটপাট ও ছেলেকে দিয়ে মাদক ব্যবসা করানোর অভিযোগ আছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।

এমপি দুর্জয়ের হুকুমে গত দুই বছর আগে আপনি জাবেদ ভূঁইয়ার ১২ শতাংশ জমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গ্রাম ছাড়া করেছেন— এ প্রশ্নের তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

অন্যায়পুর গ্রামে মাদক ও নারী দেহের ব্যবসা করেন বলে অভিযোগ আছে— এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার দলের কিছু নামধারী লোকজন এ ধরনের অপপ্রচার করছেন। এমপি সাহেব তাদের ডাকে না, কোথাও নিয়ে যায় না এটাই তাদের হিংসা।

শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল হক জানু বলেন, আমাদের শিবালয় উপজেলায় মাদকের ছড়াছড়ি। আগে পাটুরিয়া ঘাটে মাদকের ব্যবসায়ী ছিল কিন্তু ইদানিং মাদকের ঘাঁটি হিসেবে আরিচা ঘাট ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। শিবালয়ে অন্যায়পুর নামে একটি গ্রাম আছে সেখানে নাজমুল হাসান মীম নামে একটি ছেলে দেদারছে মাদকের ব্যবসা করছে। আমি প্রতিটি আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে তা বলি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দলে কিছু অনুপ্রবেশকারী দলকে ধ্বংস করার জন্য নদী থেকে বালু কেটে বিক্রয় করছে, নিরীহ সাধারণ মানুষের জমি দখল করছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চাই।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স। সেবনকারী ও ব্যবসায়ীদের আটকের জন্য অভিযান চলমান আছে। আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাও দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি বা জমি দখল এ বিষয়গুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। সূত্র: বাংলানিউজ।

রিপ্লে করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here