রাজশাহীতে:

আ’লীগের ২ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের অভিযোগ

রাজশাহী নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসান হাবীব হাসান ও নগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য মোসাদ্দেক হোসেন লাভলুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় মোসাদ্দেক হোসেন লাভলু ও আহসান হাবীব ওরফে হাসান নামের এই দুই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী হারুন অর রশীদ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিএনএফ ব্যবসায়ী হারুন অর রশীদ। টিনশেডের একটি বাড়ি কিনেছেন রাজশাহী নগরীর রানীবাজারের মিয়াপাড়া এলাকায়। এরপর থেকেই তার কাছে নামে-বেনামে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ২ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের দুই নেতা।

পরবর্তীতে আবারও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তারা। চাঁদা না পেয়ে ওই দুই আওয়ামী লীগ নেতা বাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল সব নিয়ে যান বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী হারুন।

অভিযোগে সূত্রে জানা গেছে, রাণীবাজার মিয়াপাড়া এলাকায় নিজের টিনশেড বাড়িতে তিনি ছাদ নির্মাণ করছেন। কিন্তু তাতে বাধা দিয়ে প্রথম ধাপে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন আওয়ামী লীগ নেতা লাভলু ও হাসান। বাধ্য হয়ে তিনি তাদের ২ লাখ টাকা দিয়ে নির্মাণকাজে হাত দেন। এরপর গত ৩০ এপ্রিল সকালে লাভলু ও হাসান জোর করে তার বাড়িতে প্রবেশ করেন। তারা আরও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু তিনি এবার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে বাড়ি ভাঙচুর চালিয়ে ৪ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেন হামলাকারীরা।

নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে রয়েছেন আহসান হাবীব হাসান। চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। চাঁদা আদায়, চাঁদা না পেয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি তার।

তবে ওই এলাকার স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির কাছে থেকে জানা গেছে, হাসানের নামে এমন একাধিক অভিযোগ রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তিনি এমন চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যূতার সঙ্গে জড়িত। শুধু তাই নয়, এই আওয়ামী লীগ নেতা হাসান বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ভাঙিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়েছেন। রাজনৈতিক সান্নিধ্য ও প্রশাসনে সখ্যতা থাকার কারণে সবাই ভীত। কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারেন না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ বালিয়াদীঘি এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী হারুন অর রশীদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত তারা বিভিন্ন উপায়ে আমার কাছে থেকে জোরপূর্বক চাঁদাবাজি করেছেন। কিন্তু অন্য জেলার মানুষ হওয়ায় তারা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি খাটিয়ে দিনের পর অন্যায় করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ৩০ এপ্রিল বাসায় জোরপূর্বক ঢুকে চাঁদা দাবি করলে না দেয়ায় তারা আমাকে মারধর করে এবং বাড়ি ভাঙচুর করে। বাড়ির অনেক আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যান। তাদের অত্যাচারে রাজশাহী ছাড়ি। কিন্তু যখন তারা বাড়িটিই দখলদারিত্ব দাবি করেন তখন বাধ্য হয়ে এসে থানায় অভিযোগ দিতে বাধ্য হই।’

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘এ নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। এরই মধ্যে পুলিশ সেটির তদন্ত শুরু করেছে। এ নিয়ে খুব দ্রুত একটি আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here