মাদারীপুরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ৭ জন গুলিবিদ্ধ

ছবিঃ সংগৃহীত।

সংঘর্ষে ৭ জন গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত। এক চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৪ জন আটক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন । বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

মাদারীপুরের শিবচরে এক ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ৭ জন গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।

শনিবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় ওই ইউনিয়নের আকনকান্দি গ্রামের একটি রাস্তায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৪ জনকে আটক করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মাদবর ও সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন বেপারীর মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। করোনা সংক্রমণের কারণে স্থগিত হওয়া ইউপি নির্বাচনে ওই ইউনিয়নে আতিকুর রহমান মাদবর ও মনোয়ার হোসেন বেপারী দুজনেই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন।

শনিবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় ওই ইউনিয়নের আকনকান্দি গ্রামের একটি রাস্তায় আতিক মাদবরের সমর্থক মিরাজ আকন ও মনোয়ার বেপারীর সমর্থক তুষার বেপারীর সঙ্গে ইউপি নির্বাচন নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায় তুষার বেপারী মিরাজ আকনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে চলে যায়।

এখবর ছড়িয়ে পড়লে কুতুবপুর বাজারের ডেকোরেটর ব্যবসায়ী মনোয়ার বেপারীর সমর্থক সাবেক ইউপি সদস্য আ. সালাম মাদবরকে (৬৫) তার দোকানে ঢুকে আতিক মাদবরের সমর্থক কাউসার বেপারীসহ কয়েকজন মিলে মারধর করে। এরই জের ধরে রাত আনুমানিক ৮টার দিক সাহেব বাজারে মনোয়ার বেপারীর বাড়ি সংলগ্ন আতিক মাদবরের সমর্থক দুলাল বেপারীর একটি মার্কেটে মনোয়ার বেপারীর ছোট ভাই মানজার বেপারীর নেতৃত্বে ভাঙচুর চালানো হয়।

এসময় দুলাল বেপারীসহ আতিক মাদবরের সমর্থকরা মার্কেটের সামনে জড়ো হলে  নিজ বাড়ির ছাদ থেকে তাদেরকে লক্ষ করে মানজার বেপারীর নেতৃত্বে গুলি ছোড়া হয়। এসময় মাহবুবুর রহমান (৩৮), এসকান বেপারী (৪০), কাউসার বেপারী (৩৭), আ. রাজ্জাক মাদবর (৬৫), ওবায়দুল বেপারীসহ ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়।

এছাড়া সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আহতদের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোয়ার হোসেন বেপারী, শাহাদাৎ বেপারী, কাদির বেপারী, আলমগীর বেপারীসহ ৪ জনকে আটক করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. এমদাদুল হক রাসেল বলেন, রাতে সংঘর্ষে আহত কয়েকজন রোগী হাসপাতালে এসেছে। এর মধ্যে ৭ জন রোগী গুলিবিদ্ধ ছিল। আহতদের চিকিৎসা চলছে।

শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিরাজুল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here