এবার করোনা নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য জানালেন ইতালীয় গবেষক

0
25
ফাইল ছবি।

মহামারি করোনাভাইরাস এর দাপটে বিশ্বে সংকটময় পরিস্থিতি চলছে। করোনার প্রথম ঢেউয়ের থেকে দ্বিতীয় ঢেউ সংক্রমণ ও মৃত্যুহার দুটোই বেড়েছে। এ ভাইরাসকে মোকাবিলা করতে নানা গবেষণাও চলছে। এবার করোনাভাইরাস নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য দিলেন ইতালীয় গবেষক।

গতকাল, করোনাভাইরাস দ্বিতীয় বছরে আরো প্রাণঘাতী হবেঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে। আবার বিশ্বখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন ডা. দেবী শেঠি বলেন, প্রথমেই বলে রাখি আমি এপিডেমোলজিস্ট নই বা ভাইরোলজিস্ট নই। অতি মহামারীর চরিত্র সম্পর্কে যেটুকু জ্ঞান রয়েছে তার ভিত্তিতেই বলছি যে কোভিডের সংক্রমণ আপাতত চলবে এবং দেবী শেঠির আশঙ্কা করোনার দ্বিতীয় বছরে শিশুদের জীবন বিপন্নের কারন হবে।

এবার ইতালীয় গবেষক ১৬২ জন আক্রান্ত রোগীর উপর চালিত এক গবেষণায় এমন ফলাফল পাওয়া গেছে বলে জানান ইতালির মিলানের সান রাফায়েল হাসপাতাল। সম্প্রতি তিনি এই ভয়ঙ্কর তথ্য তুলে ধরেন। ইতালীয় গবেষকের দাবি, করোনাভাইরাসের জীবাণু মানব দেহের রক্তে সর্বোচ্চ আট মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

করোনা আক্রান্তদের শরীরে এন্টিবডি তৈরি হবার পর ও সুস্থ হবার পর রক্তে করোনা ভাইরাসের জীবাণু ৮ মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এমন তথ্যে নড়াচড়ে বসেছেন বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।

গত সপ্তাহে  ইতালির আই এস এস জাতীয় স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের গবেষকরা এমন তথ্য প্রদান করেন যে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর রক্তে করোনা ভাইরাস জীবাণু আট মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

তবে আক্রান্ত হবার ১৫ দিনের মধ্যে যাদের শরীরে শতভাগ এন্টিবডি তৈরি হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে এই জীবাণু রক্তে আটমাস পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

যদি কেউ আক্রান্ত হয়ে ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায় তাদের শরীরের রক্তে আর কোনো জীবাণু থাকার সম্ভাবনা নেই। এমন তথ্য বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

মানুষ কোভিড আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়ে যে এন্টিবডি প্লাজমা অসুস্থ রুগীদের দিতেন তাতেও ভিন্নতা এনেছে এই গবেষণা। অনেক ক্ষেত্রে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠা মানুষের এন্টিবডি প্লাজমা কাজে আসছেনা অসুস্থদের সুস্থ করতে এর সঠিক উত্তর পাওয়া গেছে এই গবেষণা থেকে।

এন্টিবডি প্লাজমা কেবল ১৫ দিনে সুস্থ হওয়া রোগীরা পরবর্তীতে অন্য আক্রান্ত রোগীদের দিতে পারবেন।

‘নেচার কমিউনিকেশন’ নামের একটি বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত অপর এক গবেষণার তথ্য থেকে জানা যায় যে, গতবছর মার্চ ও এপ্রিল মাসের পর থেকে যারা করোনা আক্রান্ত হয়ে ভালো হয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই আবার আক্রান্ত হয়েছেন এবং পর্যবেক্ষণে রাখা ১৪০ জনের মধ্যে প্রায় ২৯ জন রোগী মারা গেছেন।

এর মধ্যে একজন বাংলাদেশিও রয়েছে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের রক্তে সর্বোচ্চ ৮ মাস পর্যন্ত এই করোনা জীবাণু বেঁচে থাকতে পারে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ও হাসপাতাল সূত্র হতে জানা গেছে নতুন করে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের ৫৭ শতাংশের শরীরে পূর্বেই ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ ছিল। এ ধরনের রোগীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনা ভাইরাসের জীবাণু আট মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে মানুষের রক্তে। এমন সংবাদে ভাইরাসটির ক্ষেত্রে নতুন করে কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here