২৪ জন দালালকে সাজা প্রদান:

ঢামেকে র‍্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের দালাল বিরোধী অভিযান

ফাইল ছবি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ২৪ জন দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে। এদের সর্বোচ্চ ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুন) দুপুরে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসুর নেতৃতে ঢামেক হাসপাতালে দালাল বিরোধী এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান শেষে সাংবাদিকদের র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, এটি দেশের সব চেয়ে বড় একটি হাসপাতাল। সারা দেশের লোকজন এখানে এসে একটি শৃংখলার মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণ করে। কিন্তু এই দালালরা তাদের চিকিৎসা সেবা নিতে বাধা সৃষ্টি করে। দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীরা এই হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, কর্মচারীদের দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ও ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগীতায় এই অভিযান পরিচালনা করি।

তিনি আরও বলেন, এখানে কিছু ভুক্তভোগী ছিলো তারাও আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে। এরা যারা সেবা নিতে আসে দালালরা তাদের ব্রেইন ওয়াশ করে বিভিন্ন নামি বেনামী হাসপাতাল, ক্লিনিকে নিয়ে যায়। ওই সব ক্লিনিকে কম দামে ভালো সেবা দেবে বলে আশ্বস্থ করে। কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে সেখানে তারা ভালো কোনো চিকিৎসা পাননা। এই সকল অভিযোগেরও আমরা সত্যতা পেয়েছি। সেই সকল প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতেও আমাদের অভিযান অব্যহত আছে। আমরা আজকে ঢাকা মেডিকেল থেকে ২৪ জনকে আটক করেছি। তারাও স্বীকার করেছে বেশ কিছুদিন ধরে তারা রোগীদের হয়রানি, প্রতারণা করে আসছিলো।

এসব দালালরা শ্যামলি বা মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন হাসপাতলে রোগী নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব দালালদের অনেকের কাছে আমরা রোগীর প্রেসক্রিপশন, বিভিন্ন ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের কাগজ পেয়েছি। তাদেরকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি, তারা এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। তাদের এই দোষ স্বীকার করা ও অপরাধ প্রমানিত হওয়ার তাদেরকে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে হাসপাতালের কোনো স্টাফ রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দু একজন স্টাফকেও প্রথমে আটক করা হয়েছিলো। তবে পরবর্তিতে তাদের আইডি কার্ড দেখে ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক এর সত্যতা যাচাইয়ের পর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আশরাফুল আলম বলেন, এখানে গ্রাম থেকে অধিকাংশ রোগী সুচিকিৎসার জন্য আসে। আমরা এসব রোগীদের সেবা দিতে কাজ করি। আমরা চাইনা তারা হয়রানির শিকার হোক। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

সরকারী কোনো কর্মচারী এসব দালালদের সঙ্গে জড়িত আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কাছে যদি কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয় তাহলে আমরা অবশ্যই তাদের সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here