প্রতিবাদের ‘সূচনা’ হয়ে থাকবেন সাবিনা

0
40
সংগৃহীত ছবি।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে গত ১৮ সেপ্টেম্বর একটি পার্কের ভেতরে লাশ পাওয়া যায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্কুল শিক্ষক সাবিনা নেছার। তাঁর এই মৃত্যুর খবর একরকম চেপেই গিয়েছিল সেখানকার মূলধারার গণমাধ্যম। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ায় মূলধারার গণমাধ্যমও সাবিনার লাশে মনোযোগ দিতে বাধ্য হয়।

২৮ বছর বয়সী সাবিনার বাবার বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের দাউরাই গ্রামে। তাঁর পরিবার প্রায় ৫০ বছর ধরে লন্ডনে থাকে। সাবিনা দক্ষিণ লন্ডনের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। লেখাপড়া করেছেন গ্রিনিচ ইউনিভার্সিটিতে। যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড শহরের মেসন্টিতে পরিবার নিয়ে থাকেন তাঁর বাবা আব্দুর রউফ। তিনি একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করেন।

পূর্ব লন্ডনে বসবাসরত একাধিক বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমে ব্রিটিশ মিডিয়া সাবিনার মৃত্যুর খবর প্রকাশে চুপচাপ ছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ তোলে, ব্রিটিশ গণমাধ্যমে এশিয়ান সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নারীদের মৃত্যুর খবর শ্বেতাঙ্গদের মতো গুরুত্ব পায় না। এমন সমালোচনা তীব্র হয়ে উঠলে ঘটনার তিন দিন পর সেখানকার মূলধারার গণমাধ্যম সাবিনার মৃত্যু নিয়ে সরব হয়। সেই সঙ্গে সাবিনার মৃত্যুর বিচার দাবিতে সোচ্চার হয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন।

পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি আফসানা বেগম বলেন, ‘আমরা প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’ এ ঘটনা লন্ডনে নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের নাগরিক এবং লন্ডনে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত আবু সালেহ মোহাম্মদ মাসুম বলেন, এখানে কয়েক মাস আগে এক শ্বেতাঙ্গ নারী পার্কের মধ্যে খুন হন। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে তুমুল হৈচৈ বেধে যায়। কিন্তু সাবিনার মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রথমে কার্পণ্য দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর মূলধারার মিডিয়া ফলাও করে খবর ছাপায়।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের মেয়ে সাবিনার মৃত্যুতে মর্মামত স্বজনরা খুনির কঠোর শাস্তি দাবি করেছে। গতকাল সাবিনার বড় চাচা সেলিম মিয়া বলেন, ‘সাবিনা খুব ভালো ছিল। তারা চার বোন। ১৬ বছর আগে পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। তখন সে কতটা মানবিক ও পরোপকারী, আমরা কাছ থেকে তা দেখেছি। আমরা ব্রিটিশ সরকারের কাছে খুনির বিচার চাই।’

পূর্ব লন্ডনে বসবাস করেন সাবিনার আরেক চাচা শাহিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘সাবিনার মৃত্যুর পর তার মা-বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। নারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আমরা বাংলাদেশি কমিউনিটির লোকজন এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত।’

উল্লেখ্য, সাবিনা হত্যায় জড়িত সন্দেহে লন্ডন পুলিশ ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ বলেছে, আটকের এই ঘটনা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতি। যদিও পুলিশ এর আগে দুজনকে আটক করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্রঃ কালের কন্ঠ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here