শেখ হাসিনা : লেডি উইথ ডাইনামিক পার্সোনালিটি

0
33
ফাইল ছবি।

সময়ের সঙ্গে মানুসের জীবন যাত্রা পরিবর্তন হতে থাকে। কারো ক্ষেত্রে স্বইচ্ছায় আবার কারো ক্ষেত্রে ঘটনার প্রেক্ষিত। জীবন আসলেই এক বৈচিত্রময়, কখন কি ঘটে যায় বলা অনিশ্চিত। অনেকের ক্ষেত্রে বাস্তবতার হাল ধরে সামনে আগাতে হয়, আবার অনেককেই বাস্তবতা মোকাবিলা করে সামনে আগাতে হয়।

যাদের মাঝে দুটোকে সামঞ্জস্য রাখার সামর্থ্য থাকে তারা ভবিষ্যতকে পরিবর্তন করে বিবর্তন করে দিতে পারে। এরকম ব্যক্তিত্বের অধিকারীর উদাহরণ দিতে বেশি দূরের কাউকে খোঁজার প্রয়োজন নেই, তা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখলেই সে মানুষটিকে খুঁজে পাওয়া যাবে।

২৮ সেপ্টেম্বর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ছিল। তিনি তার জীবনের ছোটবেলা থেকেই কাটিয়েছিলেন সাদামাতা জীবনের মধ্য দিয়ে, পুতুল খেলা ছিল সবচেয়ে পছন্দের খেলা, মাছ তিনি তখন ও ভালোবাসতেন এখনো প্রিয় খাবারের তালিকায় একটি। এ কথাগুলো আমার নয় বরং উনার নিজেরই কথা। তিনি এমনটাও বলেছিলেন যে থাকতে চেয়েছেন সেই ছোটবেলার শৈশবের দিনগুলির মাঝে, সাদামাটা জীবন, আর ঘরসংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকতে। কিন্তু তিনি পারলেন না সেভাবে জীবন কাটাতে। যেমনটা বলেছি শুরুতে, জীবনের বাস্তবতার শিকারকে পরিবর্তন করে দেয় কিছু স্বপ্ন কে, ঠিক এরকমই বাস্তবতা সামলাতে হয়েছে, নিজেকেও কঠিন মুহূর্ত পার করতে হয়েছে। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের ইতিহাস আমরা সবাই জানি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু একজন দেশ প্রধান নন, তিনি একজন ‘লেডি উইথ ডাইনামিক পার্সোনালিটি’, একজন নারী, একজন মা, একজন আদর্শ বাবার আদর্শ কন্যা, একজন বুবু। আরও একটি পরিচয় না দিলেই নয়, তিনি একজন ভালো রাঁধুনি। মেহমানদারী তিনি পছন্দ করেন, পরিবার এবং ঘরের সবার সঙ্গে বসে খাওয়া স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। তিনি দেশের, সমাজের জন্য একজন নেত্রী হতে পারেন কিন্তু ঘরের ভেতর তিনি বনেযান একজন সাধারণ মানুষ।

একটি দেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান হয় তখনই যখন ইনফ্রাসট্রাকচার ও যোগাযোগ ব্যাবস্থার ডেভেলপমেন্ট হতে দেখা যায় যেমনটা বিগত বেশ কয়েক বছরের মধ্যে পরিবর্তন দেখা গিয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার আমলে। আমরা পেয়েছি সড়কের পরিবর্ধন, উড়াল সেতু, বর্ধিত হাইওয়ে, শিগগিরই পেতে যাচ্ছি পদ্মা সেতু যা দেশের যোগাযোগ আরও সহজ করবে এবং মেট্রোরেল। তাছাড়া সবচেয়ে বড় উন্নয়ন হয়েছে প্রযুক্তিতে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি কিছু কিছু দেশ যাদের জিডিপি পরিসংখ্যান অনেক বেশি আমাদের দেশের তুলনায় সেসব দেশের থেকে আমরা অনেক অ্যাডভান্সড প্রযুক্তি ব্যবহারে।

বিদেশের মাটিতে যখন নিজ দেশের গ্রেট লিডারদের কথা শুনি তা যদি হয় সেদেশের সাধারণ নাগরিক নিজেকে গর্বিত লাগে আরও বেশি। নিজের সঙ্গে এমন ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনা তুলে ধরছি।

একবার এক দেশের উপশহরে ঘুরতে গিয়েছিলাম সেখানে হোটেল বুকিং এর সময় পাসপোর্ট শো করলাম, রিসেপশনে এক বয়স্ক ভদ্রলোক ছিলেন তিনি বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখেই বললেন ‘ও ইউ আর দা সিটিজেন অব গ্রেট ম্যান’স গ্রেট কান্ট্রি। আই লাভ বঙ্গবন্ধু, হি ওয়াস এ গ্রেট লিডার ইন দা ওয়ার্ল্ড।’ সত্যি এটা শুনে অনেক গর্বিত বাংলাদেশি লাগছিল। তিনি আমাকে শুধু ডিসকাউন্ট নয় একদিন আধাবেলার চার্জ করেননি।

ইউরোপের একটি দেশেও ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। সে দেশের একটি ছোট্ট শহরে শপিংমল এ ঘটনা। বহু দেশের পর্যটক, বহু ভাষাভাষীর মানুষ। আমি একজনই ছিলাম সাউথ এশিয়ান মানে বাংলাদেশি। সেলস পারসনের সঙ্গে আলাপ চলছিল দেশের প্রোডাক্ট গ্লোবাল প্রোডাক্ট নিয়ে তখন পরিচয় জানতে পারে। ঠিক ওই মুহূর্তে বলে বসলেন ‘ইউ আর ফ্রম দ্য ল্যান্ড অব বঙ্গবন্ধু, হোয়াট আ মাস্টারপিস পার্সোনালিটি হি হেড, নাও হিস ডটার ডুইং রিয়েলি এ গ্রেট জব এস্পেশালি ইন টেকনোলজি। আই মাস্ট অ্যাডমিট ওই ডোন্ট হ্যাভ স্যাটালাইট বাট ইওর কান্ট্রি হ্যাভ স্যাটালাইট বঙ্গবন্ধু।’

বিষয়টি সত্যিই গর্বের বিষয় যে উন্নত দেশের উপশহরগুলোতেও আমাদের দেশের চর্চা হয়। দেশের বিবর্তন তখন হয় যখন দেশের লিডার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিজেকে বিশ্বাস করে কঠোর পরিশ্রম করে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিষয়টাকে প্রমাণ করেছেন। উনার জন্মদিন উপলক্ষে আমার দেখা আমাদের নেত্রীর সম্পর্কে কিছু তুলে ধরলাম এবং অনেক অনেক শুভ কামনা রইল একজন ইয়ুথ সিটিজেনের পক্ষ থেকে। সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে।

লেখক :  এম. সাফাক হোসেন,  কলামিস্ট ও লেখক এবং  সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ইভেন্ট প্লানার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here