শিক্ষিকা অপসারণ দাবিতে আমরণ অনশনে রবি শিক্ষার্থীরা

0
51
সংগৃহীত ছবি।

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। তার বিরুদ্ধে ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে – ‘লাথি মেরে চারতলা থেকে ফেলে দেবো’, ‘তোর বাবার চাকরি খেয়ে ফেলবো’, ‘১০ বছরেও ইউনিভার্সিটি থেকে বের হতে পারবে না’, ‘আমার ডিপার্টমেন্টে আমিই গড’, ‘পরীক্ষা দিয়ে যাবা, খাতা ছিঁড়ে ফেলে দেবো’ এভাবেই কথা বলতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষার্থীদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ফারহানা ইয়াসমিন

এবার তার অপসারণের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের (রবি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রবির অস্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে স্থায়ী বহিস্কারের দাবি জানান তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র শামীম হোসেন, আবু জাফর হোসাইন ও নাজমুল হাসান পাপন সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটেই থামেননি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন তিনি। ওই শিক্ষকের কাছে কোনো শিক্ষার্থীই নিরাপদ নয়।

অনশনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন চার শিক্ষার্থী। তারা হলেন-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিব, জাহিদ, সিরাত ও জাকারিয়া। তাদের মধ্যে হাবিবকে শাজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, চুল কেটে দেওয়া ছাড়াও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও খারাপ আচরণের একাধিক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে শুধু একটি বিভাগের অভিযোগ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগেই এমন অভিযোগ রয়েছে। জুতোর শব্দ হলেও তিনি শিক্ষার্থীদের শাসন করেন। সব অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। দুই-একদিনের মধ্যেই এ বিষয়গুলো জানা যাবে।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক রিফাত রহমান শাকিল বলেন, ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড মেনে চলার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। তবে খারাপ আচরণের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা কখনো কোনো অভিযোগ দেয়নি।  আমাদের নজরে পড়লেও সেটাকে গুরুত্ব দেইনি। কারণ ভেবেছি হয়তো বা চুপিসারে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভালো আচরণও তিনি করবেন।

এসব বিষয়ে জানতে ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে একাধিক মিডিয়ায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি চুল কাটার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, আমার একটু রাগ রয়েছে। পরীক্ষার জন্য আমি শিক্ষার্থীদের বকাঝকা করি।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ট্রেজারার আব্দুল লতিফ বলেন, রবি পরিচালনা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেছেন। চুল কেটে দেওয়ার ঘটনাটি তদন্তে রবির রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেলকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ে ফাইনাল পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় অন্তত ১৩/১৪ জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। অপমান সহ্য করতে না পেরে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নাজমুল হাসান তুহিন এক ছাত্র আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও সকল পরীক্ষা বর্জন করে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনে তাল ঝুলিয়ে দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here