রামেক হাসপাতালে :

রোগীর চোখে ইনজেকশনের বদলে স্যালাইন পুশ করার অভিযোগ

0
84
ফাইল ছবি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. নাইমুল হকের বিরুদ্ধে রোগীর চোখে স্যালাইন পানি পুশ করার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী রোগী লায়লা রশীদের (৬৮) স্বামী রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি হারুনুর রশীদ শনিবার (০২ অক্টোবর) সকালে রাজশাহী চেম্বার ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে হারুনুর রশীদ বলেন, জীবনরক্ষার জন্য আমার স্ত্রীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছি। হঠাৎ করেই আমার স্ত্রীর ডান চোখে সমস্যা দেখা দেয়। তখন ঢাকায় আই কেয়ার হাসপাতালে একজন বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাই। সেই ডাক্তার জানান, তিন ডোজ ইনজেকশন দিতে হবে এবং এতে খরচ পরবে ৯০ হাজার টাকা।

ঢাকা থেকে আমার স্ত্রীকে নিয়ে এসে রাজশাহীতে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. নাইমুল হককে দেখাই। তিনি বিভিন্ন পরীক্ষার পরে জানান, ইনজেকশন পুশ করতে হবে। তখন আমরা রাজি হয়ে যাই। এরপর তিন ডোজ ইনজেকশন দেওয়া হয়। তিনি ইনজেকশন বাবদ ৪৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। এরপর তৃতীয় ডোজ শেষ হবার ১৫ দিন পর আবার পুরনো সমস্যা ফিরে আসে। তখন আমরা আবার ঢাকায় আই ফাউন্ডেশনে নিয়ে যাই।সেখানকার একজন চিকিৎসক বলেন চোখে ইনজেকশন দিতে হবে। তখন আমরা আগের তিন ডোজ ইনজেকশন দেওয়ার এবং পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাই। তখন সেই ডাক্তার নতুন করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানান, রোগীর চোখে কোনো ইনজেকশন দেওয়া হয়নি বরং ডিস্টিল ওয়াটার বা স্যালাইন পানি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা চরম মর্মাহত হই।

জড়িত ডাক্তারের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন কিনা? জানতে চাইলে রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক হারুনুর রশীদ বলেন, ডা. নাইমুল হক তার পূর্ব পরিচিত। তিনি তার সাথেই যে আচরণ করেছেন তাতে বোঝা যায় সাধারণ রোগীরা কতটা অনিরাপদ। তিনি চিকিৎসার মত মহান পেশাকে কলুষিত করেছেন। তাই তিনি ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. নাইমুল হক বলেন, রাজশাহীতে চোখের রেটিনা নিয়ে মূলত আমিই কাজ করছি। রোগীর পরিবার যে অভিযোগ করছেন, সেটা ভিত্তিহীন। রোগীর চোখের যে অবস্থা ছিল তাতে তিনটি ইনজেকশন দেবার প্রয়োজন ছিল। আমি তিনটি ডোজই সম্পূর্ণভাবে দিয়েছিলাম। রোগীর ভিশন ইম্প্রুভ হয়েছিল। ইনজেকশনের বদলে স্যালাইন পানি দিলে ইম্প্রুভ কিভাবে হতো। ওনারা কেন মিথ্যা অভিযোগ করছেন জানি না।

এরআগে ২০১৪ সালে নাটোর সদর হাসপাতালে থাকাকালীন সময়ে এ চিকিৎসকের করা অপারেশনের পর ৭ জন রোগীর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাটোর সদর হাসপাতালে থাকার সময় ৭ জন রোগী ছানি নিয়ে এসেছিলেন এবং তাদের অপারেশন করা হয়েছিল। তবে সেখানে সরকারি যে ফ্রুইড ব্যবহার করা হয়েছিল সেই ফ্রুইডে ইনফেকশান ছিল। যার কারণে ওই ঘটনা ঘটেছিল। সরকারি ফ্রুইডে সমস্যা থাকলে এটা সার্জনের দোষ নয় বলে দাবি করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here