সুস্থ সন্তান পেতে মায়ের যত্নে করণীয়

0
42
ফাইল ছবি।

আমরা কি আসলেই জানি গর্ভাবস্থায় মায়ের কেমন যত্ন নেয়া হলে শিশু সুস্থ, সবল ও মানসিকভাবে পূর্ণ বিকশিত হবে? গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর সুস্থতায় অনেক করণীয় রয়েছে।

আমরা গর্ভধারণকে তিনটি ভাগে ভাগ করি। প্রথম তিন মাস, দ্বিতীয় তিন মাস এবং তৃতীয় তিন মাস। এই তিন ভাগে তিন ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।

প্রথম তিন মাসের মধ্যে মায়ের মাসিক বন্ধ থাকে। তার কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন, বমি বমি ভাব, এসিডিটি, ঘন ঘন প্রস্রাব। এছাড়া মাঝেমাঝে মাথাব্যথাও হতে পারে। এগুলো খুব স্বাভাবিক সমস্যা, ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

তবে কারও খুব বেশি বমি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ এতে মায়ের শরীরের লবণের ইলেক্ট্রোলাইট পরিবর্তন হয়ে গর্ভের সন্তানের সমস্যা হতে পারে। এ সময় ভারি কাজ করা যাবে না। আর একটা আলট্রাসনোগ্রাফি করাতে হবে। কারণ অনেক সময় গর্ভফুল জরায়ুতে না এসে, জরায়ুর পাশে আসে। এমনটি হলে পেটের ভেতর রক্তক্ষরণ হয় এবং এতে মায়ের জীবনঝুঁকি এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

দ্বিতীয় তিন মাসে শিশুর বৃদ্ধি ঘটে। এ সময় মায়ের খিঁচুনি হতে পারে, ডায়াবেটিস মেলিটাস হতে পারে প্ল্যাসেন্টা বা গর্ভফুল স্বাভাবিক জায়গায় না থেকে নিচে নেমে আসতে পারে। তখন রক্তক্ষরণ হতে পারে। এই সময় অবশ্যই রোগীকে চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। এ সময় আমরা শিশুর কোনো জন্মগত সমস্যা আছে কি না জানার জন্য বিশেষ ধরনের আলট্রাসনোগ্রাফি করে থাকি।

তৃতীয় তিন মাস বা ২৮ থেকে ৪০ সপ্তাহ। এ সময় আমাদের মূল উদ্দেশ্য থাকে কীভাবে আমরা নিরাপদ প্রসব করাব। কোথায় করাতে হবে, কেমন খরচ হবে এবং এখানেও শিশুর বৃদ্ধি কেমন হচ্ছে, সেটি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এখানে মাকে কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন, শিশুর নড়াচড়া কেমন, মায়ের ওজন বাড়ছে কি না, মায়ের পায়ে পানি আসছে কি না, মায়ের কোনো দুর্বলতা আছে কি না, পেটে ব্যথা হয় কি না, পেট শক্ত হয় কি না বা রক্তক্ষরণ হয় কি না ইত্যাদি। কারণ শেষের দিকে এসে মায়ের এনিমিয়া হতে পারে। এসব সমস্যা দেখা দিলে সাথে সাথে চিকিৎসকের জানাতে হবে। সূত্রঃ ডক্টর টিভি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here