আজ বিজয়া দশমী

0
95
ফাইল ছবি।

চণ্ডীপাঠ, বোধন এবং দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এরপর হাসি-আনন্দ আর পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে কেটে গেছে চার দিন। সপ্তমীতে চক্ষুদানের মাধ্যমে প্রতিমায় যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, আজ শুক্রবার সকালে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হবে দেবী দুর্গাকে।

মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন দেবী দুর্গা। পেছনে ফেলে যাবেন ভক্তদের চারদিনের আনন্দ-উল্লাস আর বিজয়ার দিনের অশ্রু। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় এই উৎসব।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিটি মণ্ডপ ও মন্দিরে দেবীর বন্দনায় ছিল কেবলই বিষাদের ছায়া। ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টাসহ বিভিন্ন বাদ্যে, ধূপ আরতি ও দেবীর পূজা-অর্চনায় কেবলই ছিল মায়ের বিদায়ের সুর। সেই সঙ্গে ছিল করোনামুক্ত বিশ্বের প্রার্থনাও। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল সমগ্র বিশ্বের কল্যাণ কামনা।

সকালে বিহিত পূজার মাধ্যমে শুরু হয় নবমী পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পুরাণ মতে, এই তিথিতে দেবী দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে লঙ্কার রাজা রাবণকে বধ করেছিলেন দশরথ পুত্র শ্রীরামচন্দ্র। এছাড়া ১০৮টি নীলপদ্ম দিয়ে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন রামচন্দ্র। তাই এ মহানবমীতে ষোড়শ উপাচারের সঙ্গে ১০৮টি নীলপদ্মে পূজিত হয়েছেন দেবী দুর্গা। নবমী সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়েছে সন্ধিপূজা। মহিষাসুর বধের সময় দেবী দুর্গা প্রচণ্ড ক্রোধে কৃষ্ণবর্ণ রূপ ধারণ করেছিলেন। তাই পূজার এ আচারের সময় দেবীকে চামুণ্ডা রূপে পূজা করা হয়েছে।

শাস্ত্রে আছে, নবমী পূজার মাধ্যমে মানবকুলে সম্পদলাভ হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী, শাপলা, শালুক ও বলিদানের মাধ্যমে গতকাল দশভুজা দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নীল অপরাজিতা ফুল নবমী পূজার বিশেষ অনুষঙ্গ। নবমী পূজায় যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে আহুতি দেয়া হয়। ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ, ঘি দিয়ে এই যজ্ঞ করা হয়। পূজা শেষে যথারীতি অঞ্জলি। বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে গতকালও ছিল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়। অনেক রাত পর্যন্ত চলেছে প্রতিমা দর্শনের পালা। কারণ মহানবমীর দিনটি ছিল দেবীকে প্রাণভরে দেখার দিন।

গতকাল কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।

করোনার সংক্রমণ কম থাকলেও এ বছরও বিজয়ার শোভাযাত্রা হবে না। তাই পূজার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা বিসর্জন করা হবে। তবে আজ জুমার নামাজ থাকায় নামাজের সময় দুপুরে বিসর্জন অনুষ্ঠান করা হবে না। বিকাল ৪টা থেকে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জন। এর আগে বিবাহিত নারীদের সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে হবে দেবী বরণ।

দুর্গাপূজায় সর্বশেষ রীতিটি হচ্ছে ‘দেবী বরণ’। রীতি অনুযায়ী, সধবা নারীরা স্বামীর মঙ্গল কামনায় দশমীর দিন সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে দুর্গা মাকে সিঁদুর ছোঁয়ান। দেবীর পায়ে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর সেই সিঁদুর প্রথমে সিঁথিতে মাখান পরে একে-অন্যের সিঁথি ও মুখে মাখেন। মুখ রঙিন করে হাসিমুখে মাকে বিদায় জানানোর জন্যই এই সিঁদুর খেলা। ভক্তদের বিশ্বাস, দুর্গা আগামী বছর আবারো সঙ্গে করে শাঁখা সিঁদুর সঙ্গে নিয়ে আসবেন। সেই শাঁখা সিঁদুর ধারণ করেই স্বামীর মঙ্গল হবে।

দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যলোকে এসেছিলেন ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে। এর ফল হচ্ছে ছত্রভঙ্গ। আর দেবী সপরিবারে স্বর্গালোকে বিদায় নেবেন দোলায় (পালকি) চড়ে। যার ফল হচ্ছে মড়ক। দেবীর আসা ও যাওয়ার লক্ষণ শুভ না হলেও ভক্তের বিশ্বাস, দেবী মঙ্গলময়ী। তিনি জগতের মঙ্গলই করবেন। সন্তানদের আশীষ দেবেন দু’হাত ভরে। বিজয়া দশমী উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও স্টেশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা স¤প্রচার করবে। জাতীয় দৈনিকগুলোও এ উপলক্ষে রেখেছে বিশেষ আয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here