ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় দুর্বৃত্তদের উৎপাতে ব্যবসায়ীরা ঘরছাড়া। ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন এক আতঙ্ক দুর্বৃত্ত। অনেক ব্যাবসায়িক কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে ভয় পাচ্ছেন, আর কিছু ব্যবসায়ী দুর্বৃত্তদের ভয়ে হয়েছেন ঘরছাড়া। দুর্বৃত্তরা কাউকে লঞ্চ ঘাট থেকে তুলে নিচ্ছে, কাউকে রাতের আধারে বাসায় ফেরার সময় গুরুতর জখম করে লুট করে নিচ্ছে টাকা-পয়সা।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে তেমনি এক ঘটনার বাস্তব সাক্ষী হাকিমউদ্দিন বাজারের দীর্ঘদিনের মুদি ব্যবসায়ী আল-আমিন (৩৮)। রাত পৌনে এগারোটায় বাজারের দোকান বন্ধ করে বাসায় ফিরছেন তিনি। বাড়ির খুবই কাছেই বড় পুকুরপাড়ের দুলাল ডাক্তারের বাড়ির কাছে পৌঁছলে পেছন থেকে লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত হানে দুর্বৃত্তরা। মুখোশপরা দুর্বৃত্তরা তাকে গুরতর জখম করে চার লক্ষাধিক টাকা ও ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। হাসপাতালের বিছানায় গুরতর ক্ষত নিয়ে এমন ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন ভুক্তভোগী আল-আমিন নিজেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী দুলাল ডাক্তার বলেন, রাত আনুমানিক এগারোটার দিকে আমার বাড়ির সামনে কয়েকজনের চিৎকার-চেচামেচি শুনে এগিয়ে আসলে দেখি ব্যবসায়ী আল-আমিনের মাথা বেয়ে রক্ত ঝড়ছে। তার পরিবারের কাছে কল দিলে তারা দ্রুত চলে আসেন। পরবর্তীতে তাকে বোরহানউদ্নি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আল-আমিনের বাবা মনির আহমেদ বলেন, ছেলেকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্নি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকে নিয়ে গিয়েছি। তার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ডাক্তার জানিয়েছেন অবস্থা খুবই গুরুতর। তাই আজ বিকেলে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার পাঁচ ছেলে রয়েছে। দুই ছেলে হাকিমউদ্দিন বাজারে ব্যবসা করেন। তারা প্রায় একযুগের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করেন। কখনো কারো সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে এমন প্রমাণ নেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিবারও কোনো ধরনের রাজনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত নয়। গতকাল আমার ছেলে দোকান বন্ধ করে বাসায় আসছে। হঠাৎ একটি সুজুকি মোটরসাইকেলে তিনজন রড দিয়ে পেছন থেকে হামলা করে। এ সময় তার কাছে থাকা দুটি ব্যাগের মধ্যে একটি ব্যাগ ও দুটি মোবাইল নিয়ে যায়। ঐ ব্যাগের প্রায় চার লক্ষাধিক টাকা ছিল। ছেলের সঙ্গে বেশি টাকা থাকার কারণ বাজারের সবচেয়ে বড় মুদি দোকান তার এছাড়া বিকাশ, নগদ ও রকেটের বিজনেস থাকায় নিয়মিত কয়েক লাখ টাকার নগদ লেনদেন হয়। তিনি সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান।
স্থানীয় দোকান ব্যবসায়ী মাহফুজ বলেন, ব্যবসায়ী আল-আমিনকে হামলা করে তিনজনের একটি মোটরসাইকেল নায়েব বাড়ির রাস্তা দিয়ে পশ্চিম দিকে চলে গেছে। রাতে কয়েকবার এমন রঙের গাড়িটি টহল দিয়েছিল। তাদের মুখে মাস্ক থাকায় চেনা যায়নি বলেও জানান তিনি।
এলাকার আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন, দুইদিন আগেও হাকিমউদ্দিন লঞ্চ টার্মিনালের কাছে লঞ্চ থেকে নামার পর এক যাত্রী হামলা শিকার হন। চার পাঁচ জনের একটি দৃর্বৃত্তদল মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে হামলা করে এক লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে পরিচয় জানতে পেরে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন বলেও জানান।
এদিকে একই রাতে মোরশেদ নামের এক দরিদ্র কৃষকের একটি গরু নিয়ে যান দুর্বৃত্তরা। যার কারণে কৃষক থেকে শুরু করে জেলেরাও আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকান ব্যবসায়ী হেলাল বলেন, একের পর এক এমন ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে, আমরা ব্যবসায়ীরা খুব আতংকে দিন কাটাচ্ছি। কে বা কারা বাড়ি ফেরার পথে আমাদের গতিরোধ করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় আমরা সেই আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করাচ্ছি।
মাদ্রাসা শিক্ষক মো. নোমান বলেন, এভাবে প্রতিনিয়ত আইন শৃঙ্খলা অবনতি হতে থাকলে আইনের প্রতি সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা ও আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অতিদ্রুত এ সমস্ত দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করা দরকার। হাকিমউদ্দিন দূরের কথা বোরহানউদ্দিন উপজেলাতেই গত কয়েক বছরে এরকম ঘটনার উদাহরণ নেই। কেন হঠাৎ এসমস্ত কর্মকাণ্ড ঘটে যাচ্ছে তা খুঁজে বের করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।