ইন্টারনেটে ভুয়া খবর ঠেকাতে আইন হচ্ছে সিঙ্গাপুর। সোমবার দেশটির পার্লামেন্টে এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এদিকে এটি আইনে পরিণত হলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকার সংগঠন।
পার্লামেন্টে উত্থাপিত প্রস্তাব অনুসারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা কিছু সরকার ভুয়া মনে করলে তা সরিয়ে নেবে এবং পোস্টদাতাকেও সতর্ক করবে।
সোমবার সিঙ্গাপুরের আইনমন্ত্রী কে শানমুগাম সাংবাদিকদের বলেন, নতুন আইনটি স্বাধীন মতপ্রকাশে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। এটা শুধু ভুয়া খবরের বেলায় প্রযোজ্য হবে। মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে তা কোনো প্রভাব ফেলবে না। যে কেউ যৌক্তিক অযৌক্তিক যেকোনো দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করতে পারবেন।
তথ্যপ্রযুক্তির জগতে প্রভাবশালী ফেসবুক, টুইটার, গুগল—সব প্রতিষ্ঠানেরই এশিয়া সদর দপ্তর রয়েছে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে। ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে সিঙ্গাপুরের অবস্থান ১৫১। রাশিয়া ও মিয়ানমারেরও নিচে দেশটির অবস্থান।
দেশটির সরকারের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কেন্দ্রস্থল হওয়ায় এবং সেখানে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বসবাস থাকায় ও ইন্টারনেটে ব্যাপক প্রবেশাধিকার থাকায় ভুয়া খবরের ছড়িয়ে পড়ার দিক দিয়ে দেশটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।
ফেসবুকের এশিয়াবিষয়ক নীতি ইস্যুতে কর্মরত সাইমন মিলনার বলেন, তাঁরা আইনটির পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আইনটির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের নির্বাহী বিভাগকে এতই ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে যে তারা যা ভুয়া বলে মনে করবে, তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরিয়ে ফেলতে বাধ্য করা হবে এবং ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে সরকারের দেওয়া বার্তা পাঠাতে হবে।